বান্দরবানে রাতের আঁধারে কাঠ পাচারের অভিযোগ, বন কর্মকর্তার চালকের বিরুদ্ধে যোগসাজশের দাবি

প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
বান্দরবানে রাতের আঁধারে কাঠ পাচারের অভিযোগ, বন কর্মকর্তার চালকের বিরুদ্ধে যোগসাজশের দাবি

সংগৃহীত

মোঃ ওমর ফারুক হৃদয়, বান্দরবান সদর প্রতিনিধি


বান্দরবান বন বিভাগের আওতাধীন পাল্পউড প্ল্যান্টেশন এলাকায় রাতের আঁধারে মূল্যবান কাঠ পাচারের অভিযোগ উঠেছে একটি সক্রিয় চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বন বিভাগের ডিএফওর (বিভাগীয় বন কর্মকর্তা) চালক কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কাঠ পাচারকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ ও অর্থের বিনিময়ে অবৈধ কাঠ পরিবহনে সহযোগিতার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় একাধিক সূত্র। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে সেগুন, গামারি, গর্জনসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান কাঠ অবৈধভাবে পাচার করছে একটি চক্র। অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের টহলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে চালক কামরুল ইসলাম পাচারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং কাঠ পরিবহনে সহযোগিতা করে আসছেন।


স্থানীয় সূত্রের দাবি, পাল্পউড প্ল্যান্টেশন এলাকার চেমী ডলু, বালাঘাটা, কালাঘাটা, রোয়াংছড়ি ও তাড়াছাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে রাতের বেলায় কাঠ পাচার করা হয়। এসব কাঠবোঝাই যানবাহন চলাচলের সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।


আরেকটি সূত্রের দাবি, কুহালং ইউনিয়নের চেমী ডলু এলাকা থেকে রাতের আঁধারে বের হওয়া প্রতিটি কাঠবোঝাই গাড়ি থেকে ইব্রাহিম নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে ২ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। বিনিময়ে গাড়িগুলোকে নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।


এ ছাড়া গণমাধ্যমকর্মীরা অবৈধ কাঠ পাচারের তথ্য পেয়ে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তাকে জানালে চালক কামরুল পাচারকারীদের আগাম সতর্ক করে দিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে কাঠবোঝাই যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বন বিভাগের নজর এড়ানোর সুযোগ পেত পাচারকারীরা।


স্থানীয় বনাঞ্চল থেকে মূল্যবান কাঠ অবৈধভাবে পাচার হলে একদিকে বনজসম্পদ ধ্বংসের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। তাই এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


এ বিষয়ে বান্দরবান বন বিভাগের পাল্পউড প্ল্যান্টেশনের রেঞ্জ কর্মকর্তা তাইজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।


অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বান্দরবান বন বিভাগের পাল্পউড প্ল্যান্টেশনের বন কর্মকর্তা ডিএফও আবু ইউসুফের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।


এমকে/বিএম২৪