পটিয়ায় তিন মাসে প্রেমের টানে ঘর ছেড়েছে ২৪ তরুণী

প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
পটিয়ায় তিন মাসে প্রেমের টানে ঘর ছেড়েছে ২৪ তরুণী

সূত্রঃ সংগৃহীত

ওবায়দুল হক পিবলু, পটিয়া প্রতিনিধি


চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় গত তিন মাসে প্রেমঘটিত কারণে পরিবারের অগোচরে অন্তত ২৩ থেকে ২৪ জন নারী ও তরুণী বাড়ি ছেড়েছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই স্কুল ও মাদ্রাসাপড়ুয়া বলে জানা গেছে। এসব ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের অভিযানে এ পর্যন্ত ১৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি পটিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় পরিবারের অজান্তে প্রেমের টানে বাড়ি ছাড়ার প্রবণতা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর তরুণ-তরুণীরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করা হলে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়।


গত প্রায় তিন মাসে এমন একাধিক ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া নারীদের অনেককেই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পারিবারিক দূরত্ব, সন্তানদের প্রতি পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং বয়সসন্ধিকালের আবেগ এ ধরনের ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে স্মার্টফোন ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।


উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চালিয়ে এ ধরনের ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর সঙ্গে পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশের বিষয়টিও জড়িত। তাই পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে হবে।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, ঘর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা একটি সামাজিক সমস্যা। তবে যারা পালিয়ে যাচ্ছে, তাদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিষয়গুলো শিশু আইন অনুযায়ী বিবেচনা করতে হয়।


তিনি বলেন, “ইদানীং এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর প্রবণতা বেড়েছে। এর জন্য পরিবার ও সামাজিক পরিবেশ অনেকাংশে দায়ী। একজন স্কুলপড়ুয়ার হাতে উন্নত প্রযুক্তির মোবাইল থাকছে। এই মোবাইলই তরুণ-তরুণীদের বিপথগামী করে তুলছে। কাজেই পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আরও নজরদারি বাড়াতে হবে।”


পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, স্কুল-কলেজপড়ুয়া মেয়েরা আবেগের বশে কারও প্ররোচনায় পড়ে ঘর ছাড়ছে, এটি উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা জোরদার করা প্রয়োজন।


তিনি বলেন, “পরিবারের অগোচরে যখন ছেলে-মেয়েরা ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়, তখন অভিভাবকরা আমাদের কাছে ছুটে আসেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে অভিভাবকদেরও আরও সচেতন হতে হবে। ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়ার নাম করে কোথায় যাচ্ছে এবং কাদের সঙ্গে মিশছে, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।”


সচেতন মহলের মতে, প্রেমঘটিত কারণে বাড়ি ছাড়ার ঘটনা শুধু একটি পরিবারের সমস্যা নয়; এর সঙ্গে তরুণদের নিরাপত্তা, পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক মূল্যবোধের বিষয়ও জড়িত। এ প্রবণতা রোধে পরিবার, প্রশাসন, পুলিশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।


এমকে/বিএম২৪