পঞ্চগড়ে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, পিতা-পুত্রের লাইসেন্সে ক্ষোভ

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
পঞ্চগড়ে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, পিতা-পুত্রের লাইসেন্সে ক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

সাইয়্যেদ মুহাম্মদ শান্ত, পঞ্চগড় প্রতিনিধি


পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই পরিবারের পিতা-পুত্রের নামে সার ডিলারের লাইসেন্স দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিয়োগপ্রত্যাশী আবেদনকারী ও স্থানীয় কৃষকেরা। এ ঘটনায় আব্দুল কাদেরের নামে দেওয়া লাইসেন্স বাতিল করে পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাঁরা।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৩১ আগস্ট আটোয়ারী উপজেলার তোড়িয়া ইউনিয়নে একজন সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ জন আবেদন করেন। আবেদনকারীদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও সরেজমিন তদন্ত শেষে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতিবেদন দেন।


অভিযোগকারীদের দাবি, একাধিক যোগ্য আবেদনকারী থাকা সত্ত্বেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদেরের নামে সার ডিলার নিয়োগের সুপারিশ করেন। এ ক্ষেত্রে কী কারণে তাঁকে সুপারিশ করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।


অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আব্দুল কাদেরের বাবা শফিকুর রহমানের নামে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ডিলার লাইসেন্স রয়েছে। তাঁদের দাবি, সার ডিলার নিয়োগ বিধিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, একই পরিবারের কোনো সদস্যের ডিলারশিপ বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের দেওয়া খুচরা বিক্রেতার পরিচয়পত্র থাকলে পরিবারের অন্য সদস্যের ডিলারশিপ বা খুচরা বিক্রেতার পরিচয়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। এ অবস্থায় একই পরিবারের পিতা-পুত্রের নামে কীভাবে লাইসেন্স দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।


এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষক ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।


তোড়িয়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুস সামাদ, রসুল, ইদ্রিস আলী, আজিজ ও আলালসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, আব্দুল কাদের তাঁর বাবার লাইসেন্স ব্যবহার করে গাড়িতে করে এলাকায় সার বিক্রি করেন। কিছুদিন আগে অবৈধভাবে সার পাচারের সময় তাঁরা একটি গাড়ি আটক করেন বলে দাবি করেন। পরে পরিষদের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে ওই সার বিতরণ করা হয় বলে তাঁদের ভাষ্য।


কৃষকেরা আরও অভিযোগ করেন, শফিকুর রহমানের ডিলার পয়েন্ট তোড়িয়া বাজারে থাকার কথা থাকলেও তাঁর দোকান ফকিরগঞ্জ বাজারে অবস্থিত। তাঁদের মতে, তোড়িয়া বাজারে ডিলার পয়েন্ট স্থাপন করা হলে স্থানীয় কৃষকেরা সহজে সার সংগ্রহ করতে পারবেন। তাঁরা আরও দাবি করেন, আগের ডিলারশিপের মাধ্যমেও তাঁরা নিয়মিত সার পাননি। নতুন করে একই পরিবারের সদস্যকে ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় সারপ্রাপ্তি নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ বেড়েছে।


অন্যদিকে, ডিলার নিয়োগের আবেদনকারী দেলোয়ার হোসেন, কফিল উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম ও আব্দুর রহমান অভিযোগ করেন, ১৬ জন আবেদনকারীর মধ্যে ১৫ জনই অবৈধ আবেদনকারী ছিলেন। তাঁদের দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে আব্দুল কাদেরের নামে দেওয়া লাইসেন্স বাতিল এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় ডিলার নিয়োগের দাবি জানান তাঁরা।


অভিযোগের বিষয়ে আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোস্তাক আহমেদ বলেন, ডিলার নিয়োগের আবেদনকারীদের তথ্য কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।


এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীনকে মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।


তবে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, একই পরিবারের পিতা-পুত্রের নামে লাইসেন্স প্রদান এবং কৃষকদের সার না পাওয়ার অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা প্রয়োজন।