দুর্নীতির অভিযোগ করায় মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
দুর্নীতির অভিযোগ করায় মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

ছবি: বিডি মেইল

গাইবান্ধা প্রতিনিধি


গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন এক সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপক। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে দুর্নীতির অভিযোগ করায় তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগও উঠেছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।


বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে পলাশবাড়ী পৌরশহরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন পেপুলীজোড় কৃষক সমবায় সমিতি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মো. সেলিম মিয়া। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সেলিম মিয়া অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই পলাশবাড়ী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন মো. আ. মান্নান। যোগদানের পর থেকে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।


লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পলাশবাড়ী উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি (ইউসিসিএ লি.)-এর জনতা ব্যাংক পিএলসি ও সোনালী ব্যাংক পিএলসি, পলাশবাড়ী শাখার দুটি হিসাব থেকে সদস্যদের শেয়ার, সঞ্চয় ও স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) লভ্যাংশের অর্থ ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। গত দুই বছর এক মাসে এসব খাত থেকে প্রায় ছয় লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন তিনি।


এ ছাড়া উপজেলার অধীন গাইবান্ধা সমন্বিত পল্লী দারিদ্র্য দূরীকরণ কর্মসূচি, উদকনিক কর্মসূচি ও সদাবিক কর্মসূচির এফডিআরের লভ্যাংশ থেকেও ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে আরও চার লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন সেলিম মিয়া। তাঁর দাবি, সব মিলিয়ে বিভিন্ন খাত থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা তছরুপ করা হয়েছে।


সেলিম মিয়া আরও অভিযোগ করেন, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা একটি ঘটনার দায় তাঁর ওপর চাপিয়ে পলাশবাড়ী থানায় মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা করেন। ওই মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে দাবি করেন তিনি। মামলার নম্বর জিআর-২৪১/২৬, তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬।


সংবাদ সম্মেলনে সেলিম মিয়া ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানান তাঁরা।


এ ছাড়া অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিরা।


তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আ. মান্নানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।