চোর-মাদকাসক্তের অপবাদ থেকে সহায়তার হাত, অনিকের বাড়িতে এখন শত মানুষের ভিড়

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম
চোর-মাদকাসক্তের অপবাদ থেকে সহায়তার হাত, অনিকের বাড়িতে এখন শত মানুষের ভিড়

সূত্রঃ সংগৃহীত

ফারদিন নিয়াজ, উজিরপুর প্রতিনিধি (বরিশাল)


কয়েকদিন আগেও যাকে ঘিরে ছিল চোর কিংবা মাদকাসক্তের অপবাদ, সেই অনিক সরদারের বাড়িতেই এখন ভিড় করছেন শত শত মানুষ। কেউ আসছেন সহানুভূতি জানাতে, কেউ বাড়িয়ে দিচ্ছেন আর্থিক সহায়তার হাত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি হৃদয়স্পর্শী ভিডিও বদলে দিয়েছে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকার অনিক সরদারের পরিবারের চিত্র।


গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে বামরাইল এলাকায় চুরির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়রা অনিক সরদারকে আটক করেন। পরে তাঁর হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় বাবার মুখে নয় বছর বয়সী মেয়ে তুবার খাবার তুলে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে অসহায় অবস্থায় থাকা বাবার প্রতি ছোট্ট তুবার ভালোবাসা ও মমতার দৃশ্য মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনিকের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসেন।


রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অনিকের বাড়িতে যান উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা। প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার উপস্থিতি পরিবারটির মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।


অনিকের স্ত্রী জান্নাতুল ফিরদাউস জানান, তিনি এইচএসসি পাস করেছেন। তাঁদের দুই সন্তান—তুবা (৯) ও তুরিন ইসলাম তুনা (৩)। সংসারে নিয়মিত আয়ের কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। অভাব-অনটনের মধ্যেই সন্তানদের নিয়ে তাঁদের দিন কাটছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে স্বামীর একটি কর্মসংস্থান অথবা নিজের জন্য একটি চাকরির সুযোগ চান তিনি।


জান্নাতুল ফিরদাউস বলেন, অনিক এখন আগের জীবন থেকে বের হয়ে স্বাভাবিক ও সুন্দরভাবে বাঁচতে চান। পরিবারের জন্য একটি স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করা গেলে তিনি নতুন করে জীবন শুরু করতে পারবেন।


অশ্রুসজল চোখে অনিক সরদার বলেন, “আমি ভালোভাবে জীবনযাপন করতে চাই। কেউ যদি আমাকে আয়-রোজগারের একটি পথ তৈরি করে দেন, আমি নিজেকে বদলে ফেলব।”


সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের কাছে একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।


উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, বাবার প্রতি মেয়ের ভালোবাসার দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সবার নজরে এসেছে। অনিক সরদার যদি সত্যিকার অর্থে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চান, তাহলে সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।


একটি ভিডিও কখনো কখনো মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে। অনিক সরদারের পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি যেন তারই উদাহরণ। যে বাড়িটিতে কয়েকদিন আগেও ছিল অনিশ্চয়তা ও অসহায়ত্ব, সেই বাড়িতেই এখন ভিড় করছেন সহমর্মী মানুষ। তাঁদের সঙ্গে এসেছে নতুন করে বাঁচার প্রত্যাশাও।