রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তাসনিম জারার

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তাসনিম জারার

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চিকিৎসক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।


রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভাঙচুরের শিকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।


তাসনিম জারা বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকাবাসীর স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কেন্দ্রটি ধ্বংস করে দেওয়া হলেও স্বাস্থ্যকর্মীরা খোলা আকাশের নিচে শিশুদের টিকাদানসহ জরুরি সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রসূতি মা, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের বিভিন্ন সেবাও এই কেন্দ্র থেকে দেওয়া হতো।


তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী কয়েক ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর চলেছে। পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়ে থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে হামলা ঠেকানো গেল না কেন—এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা কীভাবে বজায় থাকবে?


স্বাস্থ্যসেবার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে তাসনিম জারা বলেন, ভাঙচুরের ঘটনায় শিশুদের টিকাদানের রেজিস্টার, দুটি ট্যাব ও অফিসের ফোন হারিয়ে গেছে। আগে রেজিস্টারের তথ্য অনুযায়ী অভিভাবকদের ফোন করে পরবর্তী টিকার সময় জানানো হতো। এখন স্বাস্থ্যকর্মীরা ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সীমিতভাবে যোগাযোগ করছেন।


তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অনেক বাবা-মা টিকা কার্ড হারিয়ে ফেললে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত নতুন করে রেজিস্টার তৈরি করে শিশুদের টিকার তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে হবে।


তাসনিম জারা আরও বলেন, আগে শিশুরা ছায়াযুক্ত কক্ষে বসে টিকা নিলেও এখন খোলা রোদে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে অনেক অভিভাবক ভিড়ের কারণে ফিরে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে গর্ভবতী নারীদের আল্ট্রাসনোগ্রাফি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও কাউন্সেলিংয়ের মতো সেবাও বন্ধ রয়েছে।


তিনি জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কিছু কক্ষ এখনো ব্যবহারযোগ্য। প্রশাসন দ্রুত সেসব কক্ষ খুলে দিলে অন্তত মাতৃস্বাস্থ্যসেবা আবার চালু করা সম্ভব হবে।


স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাসনিম জারা। তিনি বলেন, বর্তমানে তারা ওয়াশরুম ব্যবহার ও খাবার খাওয়ার মতো ন্যূনতম সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। তাই ব্যবহারযোগ্য কক্ষগুলো দ্রুত খুলে দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা পুনরায় চালু করার পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সময়ে টিকাদান ও অন্যান্য জরুরি সেবা নির্বিঘ্ন রাখার ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের পর কেন্দ্রটির বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে শাহআলী থানা।


এমকে/বিএম২৪