চবির গুরুত্বপূর্ণ সড়কে গর্তের ছড়াছড়ি, বৃষ্টিতে বাড়ে দুর্ভোগ

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
চবির গুরুত্বপূর্ণ সড়কে গর্তের ছড়াছড়ি, বৃষ্টিতে বাড়ে দুর্ভোগ

সূত্রঃ বিডি মেইল

আহমেদ মুনহা, চবি প্রতিনিধি


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কোথাও পিচ উঠে পাথর ও খোয়া বেরিয়ে এসেছে, আবার কোথাও তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই কয়েকটি সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি ও দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের।


ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, শহীদ আবদুর রব হলসংলগ্ন সড়ক, আলাওল হলসংলগ্ন সড়ক, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ঝুপড়ি এলাকার সামনের সড়ক এবং তিন নম্বর গোডাউনের সামনের সড়কসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও পিচ উঠে গেছে, আবার কোথাও সৃষ্টি হয়েছে গর্ত। রাতে এসব এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় ভাঙা সড়কগুলো ঠিকমতো দেখা যায় না। এ ছাড়া মাঝে মাঝে রাস্তায় বিষাক্ত সাপ বের হওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে শিক্ষার্থীরা জানান। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।


নিষ্কাশনব্যবস্থার ঘাটতি, বৃষ্টির পানি নামছে সড়কে


শহীদ আবদুর রব হলসংলগ্ন সড়কের পরিস্থিতি বৃষ্টির সময় আরও খারাপ হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৃষ্টি শুরু হলে সড়কের ওপর দিয়ে পানির স্রোত বয়ে যায়। নতুন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবন থেকে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সেখানকার পানি সড়কের দিকে নেমে আসে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আরও নষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।


এ বিষয়ে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইকবাল শাহীন বলেন, নতুন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবনের বৃষ্টির পানি পর্যাপ্তভাবে নিষ্কাশনের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কার করে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।


রাতে ভাঙা সড়ক দেখা যায় না


সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ঝুপড়ি ও তিন নম্বর গোডাউনের সামনের সড়কের পরিস্থিতি নিয়েও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, রাতে এসব এলাকায় পর্যাপ্ত আলো না থাকায় সড়কের ভাঙা অংশ ও গর্ত দেখা যায় না।


বাংলা বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সৌরভ হাসান বলেন, ‘রাতে আলো কম থাকায় ভাঙা সড়ক দিয়ে চলাচল করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত সড়ক সংস্কার ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা দরকার।’


শহীদ আবদুর রব হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সজীব বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই নতুন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের পানি রাস্তার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়াও রাস্তার অনেক জায়গা ভাঙা। ফলে বৃষ্টির সময় আমাদের যাতায়াতে খুবই সমস্যা হয়। পানির স্রোত ও ভাঙা রাস্তা—দুই পরিস্থিতিই আমাদের চলাচলে সংকট তৈরি করেছে।’


বরাদ্দ পাওয়ার পর হয় সংস্কার


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ জাহাঙ্গীর ফজল বলেন, ‘বরাদ্দ পাওয়ার পর সড়ক সংস্কার করা হয়। নির্দিষ্ট সময় পরপর সড়কের সংস্কারও করা হয়। গত বছর মার্চে সমাবর্তনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়কগুলো সংস্কার করা হয়েছিল।’


সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি বৃষ্টিবহুল দেশ। বৃষ্টিতে রাস্তাগুলো নষ্ট হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ও এর ব্যতিক্রম নয়। বিশ্ববিদ্যালয় একটি পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় বৃষ্টির সময় পাহাড় থেকে বালি ও মাটি নেমে এসে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। পানি জমে থাকায় রাস্তাগুলো নষ্ট হয়।’


তিনি আরও বলেন, ‘এগুলোর জন্য আমরা প্রাক্কলন (এস্টিমেট) প্রণয়ন করেছি। এস্টিমেটটি পিএনডিতে পাস হলে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করব।’


সড়ক সংস্কারের পরিকল্পনা


বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্ ফোরকান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়কগুলো সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জিরো পয়েন্ট থেকে শহীদ মিনার হয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদ পর্যন্ত, শহীদ মিনার থেকে শহীদ আবদুর রব হল হয়ে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল পর্যন্ত এবং জিরো পয়েন্ট থেকে দুই নম্বর গেটসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার করা হবে।’


উপাচার্য আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি।’


নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি


বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আবাসিক হলগুলোর সঙ্গে সংযোগকারী এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী চলাচল করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সড়কগুলো নিয়মিত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না করায় ছোটখাটো ক্ষতি ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করছে।


তাঁদের দাবি, শুধু সড়ক সংস্কার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। যেসব স্থান দিয়ে বৃষ্টির পানি সড়কের ওপর নেমে আসে, সেসব এলাকায় কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভাঙা সড়ক ও অন্ধকার অংশগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে।


শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা ও সড়কের ভাঙন একসঙ্গে চলতে থাকলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। তাই সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।