খাল খনন শেষে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত ইউএনওর
সূত্রঃ সংগৃহীত
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় খাল খননের কাজ শেষে অব্যয়িত ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন বরগুনার আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী।
দুইটি খাল খনন ও খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণের কাজ শেষ করে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ায় ইউএনওর এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তাঁর এই উদ্যোগের প্রশংসা করে ভালো কাজের জন্য উৎসাহ দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় আমতলী উপজেলায় দুইটি খাল খননের জন্য গত ৮ এপ্রিল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কুকুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কেওয়াবুনিয়া খালের তিন কিলোমিটার খননে ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা এবং হলদিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া খালের দুই কিলোমিটার খননে ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুই প্রকল্পে মোট ৩৯৭ জন হতদরিদ্র উপকারভোগী কাজ করেন।
ইউএনও মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত কাজ শেষ হওয়ার পর খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছও লাগানো হয়। সব কাজ সম্পন্ন করে অব্যয়িত ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
স্থানীয় উপকারভোগীরা জানান, খাল খননের ফলে এলাকার কৃষকদের দীর্ঘদিনের পানিসংকট অনেকটাই দূর হয়েছে। কেওয়াবুনিয়া খালের পানি ব্যবহার করে শুকনো মৌসুমে কৃষকরা রবি শস্যসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করতে পারবেন। এতে প্রায় ২০ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন বলে তাদের দাবি।
খালপাড়ের বাসিন্দা কাওসার মাদবর ও রুবেল হাওলাদার বলেন, খাল খননের কারণে কৃষকদের সেচসংকট কমেছে। পাশাপাশি দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ করায় এলাকার সৌন্দর্যও বেড়েছে।
আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা ও প্রকল্পের কার্যাদেশ অনুযায়ী খননকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কাজ শেষে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, খাল খনন প্রধানমন্ত্রীর একটি উদ্যোগ। সেটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি খালের সৌন্দর্য বাড়াতে দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। বরাদ্দের অর্থের মধ্যে কাজ শেষে অব্যয়িত ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এমন উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে এবং দেশের আরও ৮৩ জন ইউএনওকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানান। সেখানে ভালো কাজের জন্য উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি উপজেলা উন্নয়নে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।








