আদালতের স্থগিতাদেশের মধ্যেই কুড়িগ্রামে বাস শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
আদালতের স্থগিতাদেশের মধ্যেই কুড়িগ্রামে বাস শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা

সূত্রঃ সংগৃহীত

শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি


কুড়িগ্রাম বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আদালতের স্থগিতাদেশের বিষয়টি সামনে আসার পরও নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা পরিচালনা থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগও উঠেছে।


বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন মামলার বাদী ও শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোস্তফা কামাল। তিনি আদালতের আদেশ অমান্যের প্রতিবাদ জানিয়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।


মোস্তফা কামাল বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভোটার তালিকায় সহস্রাধিক ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিক ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে ‘পিংকি বাচ্চু’ নৈশ কোচের মালিক বাচ্চু মিয়াকে শ্রমিক হিসেবে ভোটার করা হয়েছে। তার অভিযোগ, বাচ্চু মিয়া মালিক হয়েও ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন।


এসব অনিয়মের অভিযোগে অ্যাডভোকেট মানিক চন্দ্র বর্মণের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে মামলা করেন মোস্তফা কামাল। মামলাটি ৪২/২৬ নম্বরে দায়ের করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।


বাদীপক্ষের দাবি, মামলার শুনানি শেষে আদালত নির্বাচন কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের নোটিশ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়।


এদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী মানিক চন্দ্র বর্মণ অভিযোগ করেন, আদালতে নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তাকে জোর করে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট বজলুর রশিদের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। পরে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদনে তাকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানো হয় এবং তার মোবাইল ফোন নিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।


মানিক চন্দ্র বর্মণ আরও বলেন, তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আদালত চত্বর থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। বিষয়টি তিনি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সদর থানাকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।


তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাচন কমিশনার ও মামলার ২ নম্বর বিবাদি অ্যাডভোকেট সামছুল হক সরকার বলেন, নির্বাচন স্থগিতের কোনো নোটিশ তিনি পাননি। বাদীপক্ষের আইনজীবীকে পিপির কক্ষে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না। পরদিন নির্বাচন হবে কি না, সে বিষয়েও তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।


প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডা. মো. মাহফুজার রহমানও নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে কোনো নোটিশ পাওয়ার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন স্থগিত হয়েছে কি না, তা তার জানা নেই। কোনো নোটিশও তিনি পাননি। তাই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর কাছ থেকে তিনি বিষয়টি জেনেছেন। তার দাবি, নির্বাচন স্থগিতের জন্য মামলা দায়েরকারী আইনজীবীকে একটি দল পিপি বজলুর রশিদের সরকারি কক্ষে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং পরে তার কাছ থেকে ওকালতনামা ও দরখাস্তে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।


তিনি বলেন, আদালতের স্থগিতাদেশের লিখিত নোটিশ হাতে না পেলেও মৌখিকভাবে আদালতের আদেশের বিষয়টি জানতে পারলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তা মানতে হবে।


অভিযোগের বিষয়ে পাবলিক প্রসিকিউটর ও নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট বজলুর রশিদের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনটি সহকারীর কাছে দেন। সহকারী জানান, তিনি নামাজে রয়েছেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


ফলে আদালতের আদেশ, নির্বাচন আয়োজন এবং আইনজীবীকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ—সব মিলিয়ে কুড়িগ্রাম বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।