মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৪ এএম
মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।


প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এক্সিলারেট এনার্জির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ।


বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানায় সরকার। বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়ন এবং উদার অর্থনৈতিক ও রাজস্বনীতি গ্রহণে সরকার কাজ করছে।


তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি বেসরকারি খাতনির্ভর, নিয়মভিত্তিক ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত অর্থনীতি গড়ে তোলা। এই রূপান্তরে মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অংশীদার হিসেবে দেখতে চায় বাংলাদেশ।


প্রধানমন্ত্রী জানান, জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, অর্থনীতি, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে মার্কিন বিনিয়োগের বড় সুযোগ রয়েছে।


বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সহজীকরণ, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা প্রত্যাবাসন সহজ করা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশনে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।


তারেক রহমান বলেন, অবকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তার উন্নয়নের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হচ্ছে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি যৌথ উদ্যোগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমেও মার্কিন বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হবে।


দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে দুই দেশের বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


তিনি জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে অগ্রাধিকার খাতে প্রণোদনা এবং দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উৎপাদন ও বিনিয়োগের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


ব্যবসার অনুকূল পরিবেশের গুরুত্ব সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি নিজেও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণে সঠিক নীতি ও সহায়ক পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা তিনি বোঝেন।


মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশে তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের বিষয়ে সরকার শুনতে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বিনিয়োগকারীদের সরকারকে অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।


প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।


বৈঠকে বোয়িং, শেভরন বাংলাদেশ, মাস্টারকার্ড, মেটা, মেটলাইফ, উবার, ভিসাসহ বিভিন্ন মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।


এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।