কালিয়াকৈরে ক্যারামের আড়ালে জুয়ার আসর, নিঃস্ব হচ্ছে পরিবার
সূত্রঃ সংগৃহীত
শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিনোদনের আড়ালে জমে উঠেছে ক্যারাম ও অনলাইন জুয়ার আসর। হাট-বাজার ও গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকানে প্রকাশ্যে ক্যারাম খেলার পাশাপাশি মোবাইলে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছেন কিশোর-তরুণরা। এতে অনেক সাধারণ পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক, কালিয়াকৈর সদর ও রামচন্দ্রপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ৮০টিরও বেশি চায়ের দোকানে ক্যারাম বোর্ড বসানো হয়েছে। চন্দ্রা ও সফিপুর বাজার, কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড এবং তেলিপাড়া এলাকায় সকাল ১০টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এসব আসর। প্রতি খেলায় ৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাজি ধরার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক দোকানে ক্যারামের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে বিভিন্ন অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো গেম খেলা হয়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও এতে জড়িয়ে পড়ছে। কেউ টিফিনের টাকা, আবার কেউ পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া টাকা জুয়ায় হারাচ্ছে। এর ফলে পড়াশোনায় অনাগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি তরুণদের স্বাভাবিক জীবনও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, মাদকের পাশাপাশি জুয়ার আসরও যুবসমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠেছে। দ্রুত এসব আসর বন্ধ করা না গেলে চুরি-ছিনতাইসহ নানা সামাজিক অপরাধ বাড়তে পারে।
কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের এক শিক্ষক বলেন, অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে আসছে না। খোঁজ নিয়ে দেখা যাচ্ছে, তাদের কেউ কেউ চন্দ্রা ও সফিপুর এলাকার ক্যারাম বোর্ডের আড্ডায় সময় কাটাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ক্যারাম খেলার আড়ালে জুয়ার আসর বসানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হবে। ক্যারাম বোর্ডের আড়ালে জুয়ার আসর পাওয়া গেলে বোর্ড জব্দের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং এর পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কালিয়াকৈরকে অপরাধমুক্ত রাখতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
এমকে/বিএম২৪









