উখিয়া থানায় ৯০ দিনে ৬০৪ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা উদ্ধার ৩ লাখ ৩১ হাজার ৮৬৮ পিস
সংগৃহীত
আব্দুল্লাহ আল নোমান, রামু (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
কক্সবাজারের উখিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার ও অপরাধ দমনে গত ৯০ দিনে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছে উখিয়া থানা পুলিশ। ২০২৬ সালের ১ আগস্ট থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে ৬০৪ জনকে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়েছে। এ সময় ৩ লাখ ৩১ হাজার ৮৬৮ পিস ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি অপহরণ মামলা ও নিখোঁজ ডায়েরির ভিত্তিতে ৬৩ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুর রহমান মজুমদারের নেতৃত্বে পরিচালিত এসব অভিযান স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। থানা সূত্রে জানা গেছে, মাদক কারবারি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি, নিয়মিত মামলার আসামি এবং কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
উখিয়া থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে ৬১ জন মাদক ব্যবসায়ী, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ২৩৯ জন এবং নিয়মিত মামলার ১৮৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় দুজন, ১৫১ ধারায় ১২ জন এবং দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে আরও ৩২ জনকে।
এ সময় কিশোর গ্যাংয়ের ৬৭ সদস্যকেও আটক করা হয়েছে। মাদক কারবার ও কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান এবং অপরাধীদের শনাক্তকরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অপহৃত ও নিখোঁজ ৬৩ জনকে উদ্ধার
অপহৃত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে গত তিন মাসে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের তথ্য জানিয়েছে উখিয়া থানা পুলিশ।
পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১০টি শিশু অপহরণ মামলায় ১১ জন এবং চারটি ব্যক্তি অপহরণ মামলায় ছয়জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। অর্থাৎ, ১৪টি অপহরণ মামলায় মোট ১৭ জনকে উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া নিখোঁজ ডায়েরির ভিত্তিতে আরও ৪৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অপহরণ মামলা ও নিখোঁজ ডায়েরির সূত্রে ৬৩ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
৩ লাখ ৩১ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার
গত ৯০ দিনের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে উখিয়া থানা পুলিশ। উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ৮৬৮ পিস ইয়াবা, ১১৮ দশমিক ৫ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ এবং ৩ কেজি গাঁজা।
এ ছাড়া একটি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটার গান, একটি একনলা বন্দুক, একটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদক ও অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে চারটি টমটম, একটি সিএনজি ও তিনটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। পাশাপাশি চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৫৪ বস্তা সার ও ২ হাজার পিস ইনজেকশন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তিন মাসে ২৬৩টি মামলা, নিষ্পত্তি ২৫৭টি
উখিয়া থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে থানায় ২৬৩টি জিআর মামলা দায়ের হয়েছে। একই সময়ে ২৫৭টি জিআর মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার, অপহৃত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
অপরাধী যে-ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: ওসি
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, উখিয়া থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। গত তিন মাসে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র উদ্ধার, আসামি গ্রেপ্তার এবং অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের উদ্ধারে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধপ্রবণতা সমাজের জন্য বড় হুমকি। তরুণ প্রজন্মকে অপরাধ থেকে দূরে রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপহরণ, মাদক কারবার, অবৈধ অস্ত্র কিংবা অন্য যেকোনো অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যে-ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
ওসি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত জরুরি। কোনো এলাকায় মাদক কারবার, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, অপহরণ কিংবা অন্য কোনো অপরাধের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মাদক পাচারের উৎস শনাক্ত, অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধে কার্যকর সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত ভূমিকা অপরাধ প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনতে পারে।
এমকে/বিএম২৪









