ঈদগাঁওয়ে ‘রুরাল মেডিকেল প্র্যাকটিশনার ক্লিনিক’ সিলগালা, পালালেন কথিত প্রসূতি বিশেষজ্ঞ
সংগৃহীত
নুরুল আমিন হেলালী, কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে অবৈধভাবে পরিচালিত ‘রুরাল মেডিকেল প্র্যাকটিশনার ক্লিনিক’ সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রসবকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং অক্সিজেন সিলিন্ডার জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে কথিত প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংচিংনু মারমার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করে। একই দিনে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন অমান্য করায় একটি অটো রাইস মিলকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জানা যায়, ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন পুরাতন ছাগল বাজার এলাকায় সৌদি প্রবাসফেরত মো. মনজুর আলমের ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘রুরাল মেডিকেল প্র্যাকটিশনার ক্লিনিকে’ অভিযান চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযানকালে ক্লিনিকটিতে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে সেখান থেকে গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রসবকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং অক্সিজেন সিলিন্ডার জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। জব্দ করা সরঞ্জামগুলো ঈদগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
অভিযানে ঈদগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং তাঁর টিম সহযোগিতা করেন।
এদিকে একই দিন ঈদগাঁও বাজারের প্রধান সড়কে অবস্থিত ফরাজি অটো রাইস মিলে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে ঈদগাঁও থানার পুলিশ, আনসার সদস্য ও গ্রামপুলিশ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদগাঁও উপজেলায় অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল, সার্টিফিকেটধারী প্যাথলজিস্ট ও ডিপ্লোমাধারী নার্স ছাড়াই চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আয়া ও চিকিৎসকের সহকারীদের নার্স পরিচয়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় এসব প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও অপচিকিৎসার ঘটনা প্রকাশ পেলেও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে অনেক ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়। সম্প্রতি ভুল চিকিৎসায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগের পর প্রশাসনের নজরে আসে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকটি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, অবৈধ চিকিৎসাসেবা বন্ধ এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় সচেতন মহল ঈদগাঁওয়ের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়মিত তদারকি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
এমকে/বিএম২৪









