আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পথে আনসার-ভিডিপি

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৩ পিএম
আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে  রূপান্তরের পথে আনসার-ভিডিপি

সূত্রঃ সংগৃহীত

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি


বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সংস্কার ও রূপান্তরের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে গাজীপুরের সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বাহিনীর গত দুই বছরের সংস্কার, আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরেন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।


বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) অনুষ্ঠিত সভায় মহাপরিচালক বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে আনসার বাহিনীকে আরও আধুনিক, দক্ষ, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন সংস্কার নেওয়া হয়েছে।


তিনি জানান, বাহিনীর প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের তথ্য ইতোমধ্যে ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও প্লাটুন পর্যায়ের সদস্যদের তথ্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান তিনি।


মহাপরিচালক বলেন, নিরাপত্তা দায়িত্বে সদস্য মোতায়েন, সদস্যদের তথ্য সংরক্ষণ, বেতন-ভাতা ব্যবস্থাপনা ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি জব পোর্টালের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।


ভবিষ্যতে ৬০ লাখ সদস্যের তথ্য ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান ERP ব্যবস্থাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও LLM প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে স্বেচ্ছাসেবকদের রক্তের তথ্য সংরক্ষণসহ বড় পরিসরের ব্লাড ব্যাংক সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।


প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সংস্কারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাড়ে চার লাখের বেশি নতুন তরুণ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ প্রশিক্ষণ শুধু নির্বাচন বা উৎসবকেন্দ্রিক দায়িত্বের জন্য নয়; যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ও বিভিন্ন জরুরি অবস্থায়ও প্রশিক্ষিত সদস্যরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।


তিনি জানান, গত দুই বছরে প্রশিক্ষণের ধরন, লক্ষ্য ও সিলেবাসে পরিবর্তন আনা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের দক্ষতা বাড়াতে সতেজকরণ প্রশিক্ষণও জোরদার করা হয়েছে।


গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কেপিআইয়ের নিরাপত্তায় অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, তাদের দক্ষতা ও সেবার মানসিকতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের ‘রেস্ট’ প্রথা বাতিলের মাধ্যমে চাকরির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার সংস্কারও এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি সদস্যদের বেতন, রেশন ও অন্যান্য প্রাপ্যতা যথাসময়ে নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের চাকরি শেষে গ্র্যাচুইটি ফান্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।


মহাপরিচালক আরও বলেন, ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুর্যোগ ও যুদ্ধকালীন দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বাড়াচ্ছেন। অন্যদিকে ভিডিপি ও টিডিপি সদস্যরা পরিবেশ সুরক্ষা, বৃক্ষরোপণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, অগ্নিনির্বাপণ, কৃষিকাজে সহায়তা, স্বেচ্ছাশ্রম ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।


তিনি জানান, প্রান্তিক পর্যায়ের ভিডিপি ক্লাবগুলোকে ‘সঞ্জীবন’ কর্মসূচির আওতায় পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মহাপরিচালক বলেন, কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক ধাপ পেরিয়েই বর্তমানে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হচ্ছে। নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা দালালির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


এ ছাড়া বাহিনীর প্রশিক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়ন, উপজেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালীকরণ, সদর দপ্তরের কল্যাণ শাখা আরও কার্যকর করা এবং মাঠপর্যায়ে সদস্যদের কল্যাণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।


মতবিনিময় সভায় বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ, আনসার-ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট (ভারপ্রাপ্ত) উপমহাপরিচালক মো. সাইফুল্লাহ রাসেলসহ বাহিনীর কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।