ফরম পূরণ করেও এসএসসি পরীক্ষা দেননি ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী
সূত্রঃ ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফরম পূরণসহ সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেননি ৩৮ হাজার ১২৯ শিক্ষার্থী। অনুপস্থিতির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে পরীক্ষা দেননি ১০ হাজার ১০৫ জন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ১১ শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৬৭ হাজার ৬১৪ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। ফলে ৩৮ হাজার ১২৯ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
বোর্ডভিত্তিক হিসাবে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭৮৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছেন ৩ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৪ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৬০৪ জন। এ বোর্ডে পাস করেছেন ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৬৪ জন এবং ফেল করেছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ২০ জন। পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৯০৮ জন। পাস করেছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৮৬ জন এবং ফেল করেছেন ৬৩ হাজার ৯৫৮ জন। পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২২৫ জনের মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ৩৯০ জন। এ বোর্ডে ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন পাস এবং ৫০ হাজার ৪৩৬ জন ফেল করেছেন। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।
যশোর শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮০৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৮৬৭ জন। পাস করেছেন ৮৮ হাজার ৯৭ জন এবং ফেল করেছেন ৪৪ হাজার ৮৪৩ জন। পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জনের মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪৬৩ জন। এ বোর্ডে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন পাস এবং ৫২ হাজার ৭৬৬ জন ফেল করেছেন। পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৮২ হাজার ৯০১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৮০ হাজার ৪৫৮ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৪৪৩ জন। পাস করেছেন ৪৮ হাজার ৫৫৫ জন এবং ফেল করেছেন ৩১ হাজার ৯০৩ জন। পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ৮৯ হাজার ৬৮৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছেন ৮৯ হাজার ৭৯ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৬০৭ জন। এ বোর্ডে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন পাস এবং ৩৭ হাজার ১২২ জন ফেল করেছেন। পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৯৪ জনের মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৯৪২ জন। পাস করেছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৫ জন এবং ফেল করেছেন ৭৫ হাজার ৮২৭ জন। পাসের হার ৫৮ দশমিক ৫০ শতাংশ।
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৯ হাজার ৬১৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন। এ বোর্ডে ৬০ হাজার ২৭৪ জন পাস এবং ৪৪ হাজার ৭৫৪ জন ফেল করেছেন। পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৩ লাখ ৭ হাজার ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছেন ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১০ হাজার ১০৫ জন। এ বোর্ডে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯৭ জন উত্তীর্ণ এবং ১ লাখ ৩২ হাজার ১৮৫ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৫৫ দশমিক ১৯ শতাংশ।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৪ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৭ হাজার ২১৫ জন। এ বোর্ডে পাস করেছেন ৭৪ হাজার ৪৭০ জন এবং ফেল করেছেন ৫৩ হাজার ৪৯৪ জন। পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
সব মিলিয়ে, ফরম পূরণ করেও পরীক্ষায় না বসা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ৩৮ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেই অনুপস্থিতির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
এমকে/বিএম২৪









