জাবিতে সুস্বরের আয়োজনে ‘বাউল বিসর্গ’ ২০ সেপ্টেম্বর

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
জাবিতে সুস্বরের আয়োজনে ‘বাউল বিসর্গ’ ২০ সেপ্টেম্বর

সূত্রঃ সংগৃহীত

জাবি প্রতিনিধি


‘পৃথিবীটা একদিন বাউলের হবে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সুস্বর’-এর আয়োজনে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বাউল বিসর্গ’। বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন প্রাঙ্গণে এ সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।


বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।


আয়োজকরা জানান, বাংলার লোকসংগীত ও বাউল দর্শনের গভীরতর উপলব্ধি এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে লোকসংস্কৃতির সংযোগ তৈরির লক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।


অনুষ্ঠানে ‘সুস্বর’-এর শিল্পীদের পাশাপাশি পালাগান পরিবেশন করবেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত দেওয়ান ঘরানার লোকসংগীতশিল্পী খালেক দেওয়ান ও তাঁর দল। এছাড়া ভারতের রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ও ‘দ্য ঠাকুর বয়েজ’-এর কণ্ঠশিল্পী দীপাঞ্জন পাল, বাংলাদেশের নজরুলসংগীতশিল্পী শুভ কর্মকার, পঞ্চকবি ও রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী হর্ষ মুখোপাধ্যায়, এসরাজশিল্পী সৌমিত রায় এবং তালযন্ত্রশিল্পী সহন দেওয়ান অংশ নেবেন।


অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জহির রাইহান রাইন এবং তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের প্রভাষক নাহিদুল হাসান নাঈম।


এ বিষয়ে সুস্বরের প্রচার সম্পাদক শ্যামন্তী রোদসী বলেন, “বাংলা লোকসংগীত কেবল গান নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানুষের জীবন, দর্শন, প্রেম, বিরহ ও আধ্যাত্মিকতা। এটি বাংলার সমাজের কথাও বলে, যা পৃথিবীর অন্য লোকসংগীতে পাওয়া দুষ্কর।”


তিনি বলেন, “‘বাউল বিসর্গ’-এর মধ্য দিয়ে সেই বহুমাত্রিক ঐতিহ্যকে গান, কথন ও আলোচনার মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।”


আয়োজন সম্পর্কে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইহাদ আহম্মেদ প্রত্যয় বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা, ঐতিহ্যবাহী বাউল সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত দর্শনকে সমকালীন প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে উপস্থাপনের পাশাপাশি লোকসংগীতের প্রতি তরুণদের আগ্রহ তৈরিতে অনুষ্ঠানটি ভূমিকা রাখবে।”


তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের লোকসংগীতের সবচেয়ে অনন্য দিক হচ্ছে এর দর্শন। এই দর্শন পৃথিবীর অন্য যেকোনো লোকসংগীত থেকে বাংলা লোকসংগীতকে আলাদা করে।”


উল্লেখ্য, ‘সুস্বর’ ২০১৩ সাল থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীতচর্চা করে আসছে। শুদ্ধ সংগীতের প্রসারে অঙ্গীকারবদ্ধ কয়েকজন তরুণের হাত ধরে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক পরিসরে নিয়মিত সংগীতচর্চা ও বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে।


এমকে/বিএম২৪