এসএসসিতে খারাপ ফল, অভিভাবকদের যে পরামর্শ শিক্ষামন্ত্রীর
সূত্রঃ সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
এসএসসি পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের হতাশ না হয়ে সন্তানদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেছেন, একটি পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল কোনোভাবেই একজন শিক্ষার্থীর জীবনের ব্যর্থতা নয়। বরং তাদের ভালোবাসা ও উৎসাহ দিয়ে পরবর্তী পরীক্ষায় ভালো করার জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর বার্ক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গতকাল এসএসসির ফল প্রকাশ হয়েছে। এতে কেউ আনন্দিত হয়েছেন, আবার কেউ প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় কষ্ট পেয়েছেন। তবে যারা ভালো করতে পারেনি, তাদের অভিভাবকদের তিনি অনুরোধ করবেন সন্তানদের বকাঝকা না করে আদর ও ভালোবাসা দিতে। তাদের বলতে হবে, আগামী পরীক্ষায় আরও ভালো করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, একটি পরীক্ষাই কোনো শিক্ষার্থীর জীবনের শেষ অধ্যায় নয়। শুধু জিপিএ-৫ না পাওয়াকে সন্তানের ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাওয়া হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। একটি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেই কেউ জীবনের সর্বোচ্চ সাফল্যে পৌঁছে যায় না। একইভাবে জিপিএ-৫ না পেলেও তার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় না।
শিক্ষার্থীরা কী শিখছে, তাদের শেখার পদ্ধতি কেমন এবং আমরা তাদের কতটা কার্যকরভাবে শেখাতে পারছি—এসব বিষয় নিয়েও অভিভাবক ও শিক্ষকদের ভাবতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে একটি নথির অংশ বিশেষ প্রকাশের পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। তার দাবি, বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন ছিল।
দেশের সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকটের কথাও তুলে ধরেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩৮ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। সরকারি স্কুলগুলোতে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৫০ হাজার এবং এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজে প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষকের সংকট রয়েছে।
শিক্ষক সংকটের এসব সমস্যা সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হয়নি উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।
এমকে/বিএম২৪









