ঐকমত্য কমিশন এখন ‘অনৈক্য কমিশন’: বিএনপি

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:৪৯ পিএম
ঐকমত্য কমিশন এখন ‘অনৈক্য কমিশন’: বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপি। দলটির অভিযোগ, ঐকমত্য কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বিএনপির কোনো প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি; বরং যেগুলোর বিরোধিতা করা হয়েছিল, সেগুলোকেই রাখা হয়েছে। ফলে কমিশন কার্যত ‘অনৈক্য কমিশন’-এ পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশমালা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেয়। তবে বিএনপি দাবি করছে, কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দলটির মতামত ও প্রস্তাব সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। এমনকি বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ যুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করা হয়নি।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতারা। বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপির মতে, কমিশনের প্রস্তাবে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মতামতের প্রতিফলন স্পষ্টভাবে রয়েছে, যা সরকারের অবস্থানের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। দলটির অভিযোগ, সরকার ও ঐকমত্য কমিশন পরিকল্পিতভাবে বিএনপিকে প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, এ বিষয়ে শিগগিরই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে বিএনপি প্রতিনিধিদল। পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও জানানো হবে।

ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, আগামী সংসদ নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রথম ২৭০ দিন (৯ মাস) ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে কাজ করবে। এই সময়ে গণভোটে পাস হওয়া প্রস্তাবগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন না হলে প্রস্তাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হবে।

বিএনপি নেতারা এই প্রস্তাবকে পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের ‘লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার (এলএফও)’ এবং আইয়ুব খানের ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাদের মতে, কমিশনের প্রস্তাবে ঠিক একইভাবে কিছু দলের মতামত জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে—যা জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “১৭ অক্টোবর ২৫টি রাজনৈতিক দল যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, কমিশনের দেওয়া সুপারিশের সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। আমরা মনে করি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।”

আরেক সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “রেফারিকে আমরা কখনো গোল দিতে দেখিনি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, ঐকমত্য কমিশন, সরকার ও আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল একই পক্ষ হয়ে গেছে।”

বিএনপি নেতাদের অভিমত, ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে ঐক্যের বদলে বিভাজন সৃষ্টি করছে, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হতে পারে।