আগের স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে বিএনপি সরকার: জামায়াত আমির

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
আগের স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে বিএনপি সরকার: জামায়াত আমির

সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পথেই বিএনপি সরকার হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতায় বসে গত সাত মাসে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে বিএনপি সরকার।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার এক বছর সালতামামি’ শীর্ষক এ আলোচনার আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

শফিকুর রহমান বলেন, দেশের উন্নয়নে সরকারকে সহযোগিতা করার কথা ভেবেছিল বিরোধী দল। কিন্তু সরকার সেই সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপি বদলে গেলেও বিরোধী দল তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবে না। জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় আদায় করেই ছাড়বেন তারা।

বিএনপি অতীত ভুলে গেছে মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত বিএনপি তাদের মতোই একটি রাজনৈতিক দল ছিল। এরপর দলটি রাতারাতি নিজেদের অতীত ভুলে গেছে। কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও গণভোটের প্রশ্নে তাদের মধ্যে কোনো ভিন্নতা ছিল না।

তিনি বলেন, বিরোধী দল চেয়েছিল আগে গণভোট হোক, যাতে এ বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি না হয়। কিন্তু বিএনপি তা চায়নি। বরং একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন একজন সংসদ সদস্যকে দুটি শপথ নেওয়ার কথা জানালেও তাঁরা তা নেননি। তাঁর অভিযোগ, ওই দিন থেকেই বিএনপি উগ্র আচরণ শুরু করেছে।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংসদ পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। তাঁর দাবি, সরকার এখন বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে জনগণ ভোটের মাধ্যমে পাঁচ বছরের জন্য তাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে। অথচ বিএনপি দুটি ভোটের যথাযথ মূল্যায়ন করলে বিরোধী দলকে সংসদের বাইরে আন্দোলনে যেতে হতো না। সরকারই তাদের আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছে।

সংসদ সদস্যদের বরাদ্দের বৈষম্যের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের ২০৮টি আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্যকে তা দেওয়া হয়নি। অথচ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পুরোনো রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হবে বলে জনগণ প্রত্যাশা করেছিল।

তিনি আরও বলেন, দেশকে আবারও পুরোনো রাজনৈতিক ধারায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি মহিষের ওপরও কর আরোপ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, আগের স্বৈরাচার যে পথে হেঁটেছিল, বর্তমান সরকারও একই পথে এগোচ্ছে। এ অবস্থায় বিরোধী দল নীরব থাকতে পারে না। নানা অনিয়ম ও কারচুপির পরও জনগণ তাদের বিরোধী দলে বসিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিরোধী দলের ৮৯ জন সংসদ সদস্য দেশের ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে কাজ করবেন বলেও আশ্বাস দেন।

শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলকে নানা প্রলোভন দেখানো হয়েছে। তবে তারা সেসব প্রত্যাখ্যান করেছেন। হিমালয়ের মতো অটল থেকে লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাবেন তাঁরা। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান তাদের জন্য শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

নব্য ফ্যাসিবাদের পতন হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিল, কারণ সরকারের সফলতা মানেই দেশের সফলতা। কিন্তু সরকার তাদের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এখন থেকে সরকারকে নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করার ঘোষণা দিচ্ছেন তাঁরা।

এমকে/বিএম২৪