প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ: ডিবি প্রধান

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ: ডিবি প্রধান

সংগৃহীত

 নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদকবিরোধী অভিযানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তদন্তে আইন লঙ্ঘন বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

রোববার (১৮ অক্টোবর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। এ ক্ষেত্রে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে মোটরসাইকেলের লক ভেঙে দ্রুত চুরির সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং নয়টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নিয়ে পুলিশের অবস্থান জানান।

এর আগে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অভিযানের সময় তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাঁকে ‘এই ধর, ধর, ধর’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়।

প্রতিমন্ত্রী নিজেও তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে ভিডিওটি শেয়ার করেন। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে প্রকাশিত ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’। পরে অবশ্য ভিডিওটি তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় সমালোচনা শুরু হলে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, অস্ত্র নিয়ে তিনি কাউকে ভয় দেখাননি এবং গুলিও করেননি। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্যের জবাবে ইশরাক হোসেন আরও দাবি করেন, অভিযানে তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ। সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের নির্বাচনী এলাকার মাদক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ ও ঘণ্টিঘর এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালিত হওয়ার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছেন। বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণেই বাধ্য হয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিতে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

এমকে/বিএম২৪