কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত

সংগৃহীত

জেলা প্রতিনিধি

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন একই পরিবারের সদস্য। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের পাশে ইট ও কাঠ দিয়ে তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। ওই সময় অনেক পর্যটক ঘুমিয়ে থাকায় তাঁরা কক্ষের ভেতরে আটকা পড়েন। আগুনে রিসোর্টটির প্রায় পুরো স্থাপনা পুড়ে যায়।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা হলেন ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মেলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), তাঁর পাঁচ বছর বয়সী ভাগ্নে ফায়িজান আহম্মেদ, শিক্ষক নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. নাফিস তেহামী, জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম।

অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জনকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন সাদী (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন হতাহতদের বিষয়ে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রিসোর্টের রান্নাঘরের দিক থেকে বিকট শব্দ হওয়ার পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আগুন থেকে বাঁচতে কয়েকজন লাফিয়ে বাইরে বের হতে সক্ষম হন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানান, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশ জানায়, টুপটুপ রিসোর্টে মোট নয়টি কক্ষ ছিল। গত শুক্রবার রাতে তিনটি কক্ষের পর্যটকেরা চেকআউট করে চলে যান। বাকি ছয়টি কক্ষে অবস্থান করছিলেন ১৬ জন পর্যটক। তাঁদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জন সকালে বিভিন্ন কাজে বাইরে ছিলেন।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, খবর পেয়ে সকাল ৮টার দিকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে, রিসোর্টটির অন্য কর্মীরা পালিয়ে গেলেও ম্যানেজার সুমন পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার লাইসেন্স ছিল না। এ বিষয়ে চলতি বছরের জুনে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল।

তিনি জানান, রিসোর্টটির নিচতলায় রান্নাঘর এবং ওপরের তলাগুলোতে আবাসিক ব্যবস্থা ছিল। রান্নাঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকায় গত ১৩ মে পরিবেশ অধিদপ্তর রিসোর্টটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছিল। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এমকে/বিএম২৪