পল্টনের চায়ের দোকানে দিনে হাজার হাজার টাকার বেচাকেনা, নিট আয় ৩০–৪৫ হাজার

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৪ এএম
পল্টনের চায়ের দোকানে দিনে হাজার হাজার টাকার বেচাকেনা, নিট আয় ৩০–৪৫ হাজার

সূত্রঃ বিডি মেইল

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকাগুলোর একটি পল্টন মোড়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পথচারী, অফিসগামী মানুষ, পরিবহনকর্মী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যস্ততায় সরগরম থাকে এলাকা। এই ব্যস্ততার মাঝেই ছোট ছোট চায়ের দোকান হয়ে উঠেছে মানুষের সাময়িক বিশ্রাম, আড্ডা আর খবর বিনিময়ের জায়গা। তবে এক কাপ চায়ের আড়ালে এসব দোকান পরিচালনার রয়েছে প্রতিদিনের কঠিন অর্থনৈতিক হিসাব।


পল্টন মোড়ের একটি মাঝারি আকারের চায়ের দোকানের হিসাব অনুযায়ী, সেখানে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেচাকেনা হয়। এর মধ্যে শুধু চা বিক্রি থেকেই আসে প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। পাশাপাশি বিস্কুট, সিঙাড়া, কেক, বোতলজাত পানীয়সহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হয়। সিগারেট বিক্রিও মোট বেচাকেনার একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে।


দোকানটির হিসাবে, সব মিলিয়ে মাসে মোট বিক্রি বা টার্নওভার দাঁড়ায় আনুমানিক ১ লাখ ৬০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত। তবে এই অর্থকে সরাসরি লাভ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ প্রতিদিনের বিক্রির বড় একটি অংশ আবার কাঁচামাল ও পণ্য কেনার পেছনে ব্যয় হয়ে যায়।


চা তৈরির জন্য দুধ, চিনি, চা-পাতা ও এলপিজি গ্যাসসহ বিভিন্ন উপকরণ কিনতে প্রতিদিন খরচ হয় আনুমানিক ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। এর বাইরে সিগারেট, বিস্কুট ও অন্যান্য নাশতা পুনরায় কিনতে প্রতিদিন আরও প্রায় আড়াই থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়।


পল্টনের মতো ব্যস্ত এলাকায় দোকান পরিচালনার ক্ষেত্রে রয়েছে বাড়তি স্থায়ী খরচও। দোকানের আকার ও অবস্থানভেদে মাসিক ভাড়া দিতে হয় প্রায় ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। দোকানে কর্মচারী থাকলে তাদের বেতন বাবদ মাসে আরও ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এর সঙ্গে রয়েছে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, কর্মচারীদের খাবারসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়।


সব ধরনের পণ্য ও কাঁচামাল কেনা, দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাদ দেওয়ার পর ওই দোকানের মালিকের হিসাবে মাস শেষে নিট আয় থাকে আনুমানিক ৩০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা।


দোকান মালিক সোবহান জানান, বাইরে থেকে প্রতিদিনের বিক্রির অঙ্ক বড় মনে হলেও পুরো টাকাটা লাভ নয়। প্রতিদিন বিক্রির একটি বড় অংশ পরদিনের পণ্য ও কাঁচামাল কেনার জন্য আবার ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দুধ, চিনি, চা-পাতা, গ্যাসসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ায় আগের তুলনায় লাভের পরিমাণও কমেছে।


তারপরও পল্টনের মতো ব্যস্ত এলাকায় চায়ের দোকান অনেকের কাছে জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এসব দোকানের আয় দিয়েই কেউ পরিবারের খরচ চালাচ্ছেন, কেউ সন্তানের পড়াশোনার ব্যয় মেটাচ্ছেন, আবার কেউ দীর্ঘদিন ধরে এই ছোট ব্যবসার ওপর নির্ভর করেই সংসার চালিয়ে আসছেন।


এক কাপ চায়ের দাম হয়তো কয়েক দশক টাকার বেশি নয়, কিন্তু সেই এক কাপ চায়ের পেছনে রয়েছে কাঁচামালের খরচ, দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন, পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং দিনশেষে লাভের হিসাব। পল্টনের চায়ের দোকানের এই হিসাব তাই শুধু একটি ব্যবসার গল্প নয়; রাজধানীর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রতিদিনের টিকে থাকার লড়াইয়েরও একটি চিত্র।