‘হাজারবার চেয়েছি পুরুষদের ঋতুস্রাব হোক’, কেন এমন বললেন শ্রুতি হাসান?

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
‘হাজারবার চেয়েছি পুরুষদের ঋতুস্রাব হোক’, কেন এমন বললেন শ্রুতি হাসান?

সূত্রঃ ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন

বিনোদন ডেস্ক


ঋতুস্রাবের সময় নারীদের শারীরিক কষ্ট ও কর্মক্ষেত্রে ছুটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আলোচনায় এসেছেন দক্ষিণী অভিনেত্রী শ্রুতি হাসান। তিনি বলেছেন, ঋতুস্রাবের বিষয়টি পুরুষেরা উপলব্ধি করতে পারলে হয়তো কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য ‘পিরিয়ড লিভ’ বা ঋতুকালীন ছুটির ব্যবস্থা আরও স্বাভাবিক হয়ে উঠত।


সম্প্রতি সোহা আলি খানের একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে ঋতুস্রাবের সময় নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন শ্রুতি। তিনি জানান, পিসিওএস (পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম)-এর কারণে ঋতুস্রাবের সময় তাকে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়।


শ্রুতির ভাষায়, “আমি হাজারবার প্রার্থনা করেছি, যেন পুরুষদেরও পিরিয়ডস হয়। তাহলেই হয়তো আমাদের কর্মক্ষেত্রের চুক্তিপত্রে ‘পিরিয়ড লিভ’-এর বিষয়টি উল্লেখ থাকত।”


অভিনেত্রীর মতে, ঋতুস্রাব নিয়ে সমাজে এখনও এক ধরনের অস্বস্তি ও সংকোচ রয়েছে। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে নারীরা অনেক সময় নিজেদের শারীরিক সমস্যার কথা বলতে দ্বিধা করেন।


নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের একটি অভিজ্ঞতার কথাও জানান শ্রুতি। তিনি বলেন, একবার তার এক সহ-অভিনেতা হাঁটুর অস্ত্রোপচারের বিষয়টি জানিয়ে শুটিংয়ের সময়সূচি সে অনুযায়ী নির্ধারণের কথা বলেছিলেন। সেই ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রথমবার একজন পরিচালককে নিজের ঋতুস্রাবজনিত সমস্যার কথা জানান তিনি।


শ্রুতির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পরিচালকের মেয়েরও ঋতুস্রাবের সময় তীব্র ব্যথা হতো। বিষয়টি জানার পর ঋতুস্রাব নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে।


পডকাস্টে শ্রুতির বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন সোহা আলি খানও। মজার ছলে তিনি বলেন, পুরুষদেরও যদি ঋতুস্রাব হতো, তাহলে হয়তো তারা কে কতটা রক্তপাতের মুখোমুখি হচ্ছেন বা কার ট্যাম্পনের আকার কত বড়—এসব নিয়েও নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করতেন।


ঋতুস্রাবের সময় নারীদের শারীরিক কষ্ট, কর্মক্ষেত্রে সহায়ক পরিবেশ এবং বিষয়টি নিয়ে সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই মূলত শ্রুতির বক্তব্য ছিল।