বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ১, আ'হত ৮

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ১, আ'হত ৮

মো: মিজানুর রহমান (সুমন),  বেগমগঞ্জ (নোয়াখালী)প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জেরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শাকিল মাহমুদ (৩১) নামে এক যুবদল কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তাহেরপুর গ্রামের বাহারের দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ শাকিল মাহমুদ ছয়ানী ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের পাটোয়ারি বাড়ির আলমগীরের ছেলে এবং তিনি স্থানীয় যুবদলের সভাপতি প্রার্থী।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন—মো. আলাউদ্দিন (৫০), মহর আলী (৫৯), তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫০), ছেলে মাহফুজুর রহমান (২২), মেয়ে নাসরিন আক্তার (১৮), আলমগীর হোসেন (২৬) ও জহির (৫০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই এলাকার দুই বিএনপি কর্মী ইমন ও মাহফুজের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। সেই ঘটনার জেরে সোমবার বিকেলে ছয়ানী বাজারে কৃষকদলের আনন্দ মিছিলকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় রাতে বিএনপির একটি পক্ষ তাহেরপুর এলাকায় গেলে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, মাহফুজ বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত হলেও তার পরিবার জামায়াতের সমর্থক। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

অভিযোগ রয়েছে, রাত সোয়া ৯টার দিকে মাহফুজের বাড়িতে হামলা চালানো হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে যুবদল কর্মী শাকিল মাহমুদ বুকের বাম পাশে গুলিবিদ্ধ হন এবং আলাউদ্দিনের মাথা ফেটে যায়।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে শাকিলের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।

ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আলাউদ্দিন দাবি করেন, মীমাংসা করতে গেলে প্রতিপক্ষ তাদের ওপর হামলা চালায় এবং গুলি করে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত রাকিব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো গুলি করেননি; বরং বিএনপি নেতার অস্ত্র থেকে ভুলবশত গুলি ছুটে শাকিল আহত হন।

ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এটি বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ নয়; বরং জামায়াতের লোকজন তাদের মিছিলে হামলা করেছে।

অন্যদিকে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন অভিযোগ নাকচ করে দাবি করেন, এটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল।

এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।