পাবনায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ: যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন, ভাঙচুর

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
পাবনায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ: যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন, ভাঙচুর

আব্দুল কাইউম :

পাবনার আতাইকুলা আড়িয়াডাঙ্গী গ্রামে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। পরে বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শাকিলা খাতুন (ছদ্মনাম) আড়িয়াডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১১ জুন স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিত মো. কাশেম তাকে দোকানের সামনে ডেকে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে কৌশলে দোকানের ভেতরে নিয়ে গিয়ে তার সঙ্গে অসদাচরণ ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় পরিবারটি আতাইকুলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সকালে আড়িয়াডাঙ্গী এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে উত্তেজিত কিছু ব্যক্তি অভিযুক্তের কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর চালায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

আড়িয়াডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “আমাদের একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন ঘটনার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, মো. কাশেম দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি ও জনসাধারণের সম্পত্তি দখল, চাঁদাবাজি এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির মতো বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো প্রমাণিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয় জনগণ।