ইউকে এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘মেমোরিস অ্যান্ড মিজারিস’-এর ইউরোপীয় প্রিমিয়ার

প্রকাশিত: ০৩ মে ২০২৬, ০৭:১৪ এএম
ইউকে এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘মেমোরিস অ্যান্ড মিজারিস’-এর ইউরোপীয় প্রিমিয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে ধারাবাহিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা ও কবি মোহাম্মদ ফখরুল আলমের চলচ্চিত্র “মেমোরিস অ্যান্ড মিজারিস” ২৮তম ইউকে এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অফিসিয়াল সিলেকশনের মাধ্যমে ইউরোপীয় প্রিমিয়ার শুরু করেছে।

চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন শরিফ সিরাজ, খালিদ হাসান রুমি ও ফখরুল আলম। ন্যারেশন দিয়েছেন আরিক আনাম খান। হাসিব শাকিলের প্রযোজনায় HASH Films Ltd.-এর ব্যানারে নির্মিত এ চলচ্চিত্রে সহকারী প্রযোজক হিসেবে ছিলেন ভারতের পূঁজা পোর্তে ও লুৎফল নিটল। নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মারুফ প্রতীক।

ক্রিয়েটিভ টিমে চিত্রগ্রহণ, ক্রিয়েটিভ প্রডিউসিং ও কালার গ্রেডিং করেছেন অনুপম চৌধুরী। সম্পাদনা ও ভিএফএক্স সুপারভিশনে ছিলেন তানজিল অনন্ত। আর্ট ডিরেকশনে ছিলেন ফারিয়া নীলা এবং মিউজিক স্কোর করেছেন বহুব্রীহির রাশিদুল রাফি।

পরিচালক ফখরুল আলম জানান, “মেমোরিস অ্যান্ড মিজারিস” একটি কাব্যিক উপাখ্যান, যা এক আত্মার পৃথিবীতে কাটানো নানা সময়ের গল্প তুলে ধরে। এতে যুদ্ধ-পরবর্তী মানসিক ও অস্তিত্বগত বাস্তবতা অনুসন্ধান করা হয়েছে। যুদ্ধের দৃশ্যমানতার চেয়ে এর পরবর্তী প্রভাব—মানুষের অন্তর্জগতের পরিবর্তন—চলচ্চিত্রটির মূল বিষয়বস্তু।

চলচ্চিত্রটি দেখায়, যুদ্ধাহত মানুষ ভালোবাসা, ঘৃণা, ধর্ম বা শিল্পকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করলেও বাস্তবতা, পরিবর্তনশীল সময় এবং গভীর নিঃসঙ্গতার সঙ্গে তাদের জীবনের টানাপোড়েন অব্যাহত থাকে।

প্রথাগত বর্ণনাশৈলী ভেঙে চলচ্চিত্রটি কখনো চিঠির কাঠামো, কখনো অভ্যন্তরীণ মনোলগ, আবার কখনো ক্যামেরার গতি, রঙ ও নীরবতার ব্যবহারের মাধ্যমে স্মৃতি, কল্পনা ও অনুভূতির মিশেলে এক অনিয়মিত প্রবাহ সৃষ্টি করেছে, যা চলচ্চিত্রটিকে পরাবাস্তব মাত্রা দিয়েছে।

স্বতন্ত্র ভাষা ও অন্তর্মুখী উপস্থাপনার মাধ্যমে “মেমোরিস অ্যান্ড মিজারিস” আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্রের একটি শক্তিশালী ও বিকাশমান কণ্ঠ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে।

উল্লেখ্য, চলচ্চিত্রটি এর আগে নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও আন্তর্জাতিক বিভাগে অফিসিয়াল সিলেকশন অর্জন করেছিল।