শেষ মুহুর্তে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় জমজমাট কোরবানির পশুর হাট
নুরুল আমিন হেলালী, কক্সবাজার প্রতিনিধি:
পর্যটন নগরী কক্সবাজারের জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে শেষ মুহুর্তে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় জমজমাট লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিটি কোরবানির পশুর হাটে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্ব স্ব উপজেলার বিভিন্ন হাটে বেড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার সরব উপস্থিতি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গরুর হাঁকডাক, দরদাম আর মানুষের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠছে হাটগুলো। ক্রেতাদের আকর্ষণে বেপারি ও খামারিরা নিজেদের পশুকে হরেক রকমের সাজসজ্জাসহ বিভিন্ন পরিচিত নাম দিয়ে বাজিমাত করেছেন। অন্যদিকে ইজারাদাররও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে বাজারে সিসিটিভি ক্যামেরা, পর্যাপ্ত লাইটিং ও জাল নোট সনাক্তকরণ মেশিন বসিয়েছে। অপরদিকে এবার জেলার আকর্ষণীয় পশুর হাট গুলো ইজারা না হওয়ায় খাস কালেকশনের আওতায় বিক্রেতাদের সুবিধার্থে মাত্র ১০০০/টাকা হাসিল ঘোষণায় খুশি গরু ব্যবসায়ীরা। তবে খাস কালেকশনে সরকারি রাজস্বে লুটপাট চলছে এমন অভিযোগ সচেতন মহলের। গতকাল ঈদগাঁও বাজার পশুর হাট ঘুরে দেখা যায় রাজস্ব লুটপাটের ভয়াবহ চিত্র। হাসিল আদায়ে ব্যবহৃত রসিদ বই বিেএনপি-জামাতের কতিপয় সুবিধাভোগী ভাগ করে নিজেদের লোক দিয়ে হাসিল আদায় করছে যা যথাযথভাবে সরকারি কোষাগারে জমা করছে কিনা সন্দেহ সচেতন মহলের। এছাড়া কিছু কিছু রশিদ বই উপজেলার একজন কর্মচারীকে একাই নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা গেছে। হাসিল আদায়ে রশিদ বই বিতরণের ব্যাপারে ঈদগাঁও ভুমি অফিসের তহশিলদার আব্দুল জব্বার বলেন,দলীয় লোকদের প্রভাব থাকায় বাধ্য হয়ে তাদের নিজস্ব লোক দিয়ে হাসিল আদায়ে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
অপরদিকে দক্ষিণ মিঠাছড়ি কাড়ির মাথা গরু বাজারে অতিরিক্ত হাসিল নেওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় ইজারাদারকে জরিমানা করেছেন জেলা প্রশাসনের দ্বায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট। প্রতিটি বাজারে পুলিশ,আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য নিয়োজিত থাকায় তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।তবে জেলায় সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কয়েকটি বড় পশুর বাজার ইজারা না হওয়ায় সরকার হারিয়েছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। কক্সবাজার পৌরসভার একমাত্র পশুর হাট বদরমোকাম, ঈদগাঁও বাসস্টেশন সংলগ্ন স্থায়ী পশুর হাট, সদর উপজেলার খরুলিয়া বাজার, রামু উপজেলার চাকমারকুল বাজার, উখিয়া দারগা বাজার, রুমখা বাজার, মরিচ্যা বাজার, থাইং খালী ও সোনার পাড়াসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাটবাজারগুলোতে এখন একই চিত্র বিরাজ করছে।
হাট ঘুরে দেখা গেছে, দেশি মাঝারি আকারের গরুর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত ক্রেতাদের বড় একটি অংশ সাধ্যের মধ্যে ভালো পশু খুঁজছেন।এ বছর জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী প্রায় শতাধিক কোরবানির পশুর হাট বসেছে।








