তারেক রহমান ও রুমিন ফারহানার ব্যাঙ্গাত্মক ছবি পোস্ট, বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে আহত ২০
চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ফেসবুকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলটির সাংসদ রুমিন ফারহানাকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ছবি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে হাজীগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের পালিশারা বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা ইলিয়াস হোসেন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলটির নেত্রী রুমিন ফারহানার একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি শেয়ার করেন। পোস্টটি নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি ‘অবমাননাকর’ দাবি করে প্রতিবাদ জানান। পরে চাপের মুখে ইলিয়াস হোসেন দুঃখ প্রকাশ করে ছবিটি মুছে ফেলেন। এ নিয়ে আজ স্থানীয়ভাবে বৈঠক ডাকা হলেও বৈঠকের আগেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত বিএনপির পাঁচজন নেতাকর্মীকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে উপজেলা যুবদলের সদস্য নেছার আহমেদ চৌধুরী ও ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রয়েছেন।
আহত যুবদল নেতা নেছার আহমেদ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, “আমরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু জামায়াত কর্মীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের নেতা তারেক রহমানকে নিয়ে অবমাননাকর বিষয়টি আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।”
অন্যদিকে ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির হাফেজ আব্দুল মোতালেব দাবি করেন, “এটি আসলে ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটেছে। বিএনপি কর্মীরাই পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”
সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কিছু সময়ের জন্য পালিশারা বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি, কাউকে আটকও করা হয়নি।”









