‘তোরাও পুড়াবি, আমরাও পুড়াব’: হাসিনার অডিও ট্রাইব্যুনালে

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম
‘তোরাও পুড়াবি, আমরাও পুড়াব’: হাসিনার অডিও ট্রাইব্যুনালে

সূত্রঃ ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক



জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পাল্টা হামলা ও আগুন দেওয়ার নির্দেশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ দাবি করেছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন।


সোমবার (১০ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চতুর্থ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় শেখ হাসিনার ফাঁস হওয়া একটি অডিও কথোপকথনের লিখিত রূপ ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন প্রসিকিউটর।


ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তৎকালীন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে শেখ হাসিনার টেলিফোনে কথোপকথন সরকারি সংস্থার মাধ্যমে রেকর্ড করা হয়। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ফরেনসিক পরীক্ষায় ওই অডিওকে সত্য বলে শনাক্ত করে।


রেকর্ডে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে আলাপকালে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, যারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে, তাদের বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও সাধারণ মানুষ দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার কথা। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘তোরাও পুড়াবি আয়, আমরাও পুড়াব।’


আলাপচারিতায় হাছান মাহমুদ ওই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিকে ‘টিট ফর ট্যাট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি মহল্লায় মহল্লায় নেতাকর্মীদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়ার কথা বলেন।


অন্যদিকে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কথোপকথনে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে র‌্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হেলিকপ্টার ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে হামলাকারীদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান শনাক্ত করে প্রতিরোধের কথাও বলেন তিনি।


এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং গণমাধ্যমের ওপর সেন্সরশিপ আরোপের বিষয়েও তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে বিভিন্ন নির্দেশনা ও আলোচনা হয়েছিল বলে ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরা হয়।


মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ আসামি রয়েছেন। মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক।



এমকে/বিএম২৪