মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

সূত্রঃ সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিনিধি


মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনের সরকারি সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিটে এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টনকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি দাবি করা হয়েছে।


রোববার (৩০ আগস্ট) ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপিসহ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন আসনের ১১ সংসদ সদস্য রিটটি দায়ের করেন। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।


রিটকারীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ২০০১ সালেও একইভাবে মন্ত্রীদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে করা রিটে হাইকোর্ট দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর দাবি, রুলস অব বিজনেস, সংবিধান ও উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে বর্তমান সিদ্ধান্তও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি।


রিট আবেদনকারীরা হলেন—পাবনা-১ আসনের ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, ঢাকা-১৪ আসনের মীর আহমেদ বিন কাশেম, রংপুর-৫ আসনের মো. গোলাম রব্বানী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মো. মাসুদ পারভেজ, যশোর-১ আসনের মুহাম্মদ আজিজুর রহমান, বাগেরহাট-২ আসনের শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, পটুয়াখালী-২ আসনের শফিকুল ইসলাম মাসুদ, শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম, গাজীপুর-৪ আসনের সালাউদ্দিন এবং চট্টগ্রামের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।


এর আগে দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।


মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিগত সরকারের সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন বরাদ্দের নামে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাট হয়েছে। লুটপাটের অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সরকার মনে করছে।


সরকারের উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যক্রমে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে এ দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।


প্রজ্ঞাপনে সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ এবং রুলস অব বিজনেসের সংশ্লিষ্ট বিধানের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রুলস অব বিজনেস থেকে বিচ্যুতির অনুমতি দিতে পারেন।


এ ছাড়া প্রজ্ঞাপনে ২০০৩ সালের রিট পিটিশন নম্বর ৩৫১২-এর হাইকোর্টের রায়ের উল্লেখ করে বলা হয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সাংবিধানিক বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের এ ধরনের দায়িত্ব দেওয়া সরকারের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে।


এখন জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনের ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রিটের শুনানিতে আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে সংশ্লিষ্টরা।