নারীদের জন্য বিশেষ বাসসেবা চালু, রাস্তায় নামল ১৪ বাস
সূত্রঃ সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীসহ দেশের তিন শহরে নারীদের জন্য বিশেষ বাসসেবা ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ট্রাক ডিপোতে এ সেবার উদ্বোধন করেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, কোনো উদ্যোগ উদ্বোধনের কয়েক মাস পর যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। নতুন এই সেবার মান সময়ের সঙ্গে আরও উন্নত করার পাশাপাশি নারী যাত্রীরা যাতে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, অতীতে অনেক সেবা চালুর পর কয়েক মাসের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। এমন পরিস্থিতি এবার হতে দেওয়া হবে না। সেবা চালুর পর দুই মাসের মধ্যে এর মান আরও বাড়াতে হবে। শুরুতে লজিস্টিক সহায়তা ও জনবল ব্যবস্থাপনায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও প্রতিদিন সেবার মানোন্নয়নে কাজ করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাসে ওঠার আগে অপেক্ষার সময় থেকে শুরু করে বাসে ওঠা, ভ্রমণ এবং গন্তব্যে নামা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করতে হবে। অপেক্ষার সময় অনেক নারী বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হন। বাসের ভেতরের ব্যবস্থাপনাতেও অনেক সময় অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়। এসব সমস্যা দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্র ও পরিবারের অর্থনীতিতে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাই তাঁদের সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
১৪ বাসে যাত্রা, বাড়বে রুট
মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে ১৪টি বিশেষ বাস দিয়ে এই সেবা চালু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার ১০টি রুটে ১০টি, চট্টগ্রামের দুটি রুটে দুটি এবং বগুড়ার দুটি রুটে দুটি বাস চলবে। ঢাকায় চলাচলকারী ১০টি বাসের মধ্যে একটি একতলা এবং নয়টি দ্বিতল।
আগামী দিনে এই সেবা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে বাস ও রুটের সংখ্যা বাড়ানো হবে। বর্তমানে নারীরা যে পরিবেশে যাতায়াত করছেন, সেটিও ধীরে ধীরে উন্নত করা হবে।
ঢেলে সাজানো হবে বিআরটিসি
বিআরটিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, সংস্থাটি বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ বা তার বেশি বাস পরিচালনা করছে। বর্তমানে বিআরটিসি লোকসানে না থাকলেও ব্রেক-ইভেন অবস্থায় রয়েছে।
তবে সেবার মান ও পরিচালনব্যবস্থায় সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরোনো ব্যবস্থাপনাকে যুগোপযোগী করে ঢেলে সাজাতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রীবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
ঢাকার বাস রুট রেশনালাইজেশনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, অনেক রুটের অস্তিত্ব না থাকলেও সেসব রুটের পারমিট রয়েছে। আবার কিছু রুটে পারমিট না থাকলেও বাস চলাচল করছে। যাত্রীদের চাহিদা ও বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে রুট ও রুট পারমিট নতুন করে নির্ধারণ করা হবে।
২০০ ই-বাসের ১০০টি নারীদের জন্য
পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস (ই-বাস) সরাসরি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, প্রকল্পের মাধ্যমে ই-বাস কিনতে অনুমোদন, দরপত্র ও আন্তর্জাতিক ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত দেড় বছর সময় লাগতে পারে। তাই দ্রুত এগোতে সরাসরি ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে ই-বাস গুরুত্বপূর্ণ। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা সরকারের অঙ্গীকারের অংশ।
এই ২০০টি ই-বাসের মধ্যে ১০০টি বিভিন্ন রুটে নারীদের জন্য বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এর ফলে নারী বাসসেবার রুট ও বাসের সংখ্যা আরও বাড়বে। ভবিষ্যতে রাজধানীর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বিভাগেও এ সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, বিআরটিসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমকে/বিএম২৪









