জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে নতুন সংকট সৃষ্টি হবে : চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের সেমিনারে কর্নেল অলি

প্রকাশিত: ১১ মে ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে নতুন সংকট সৃষ্টি হবে : চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের সেমিনারে কর্নেল অলি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, সাংবিধানিক সংস্কার এবং গণভোটে পাওয়া জনগণের রায় কার্যকর করার দাবিতে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যের সেমিনার। সেমিনারে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গণভোটে জনগণের স্পষ্ট মতামত পাওয়ার পরও সরকার জুলাই সনদের মূল চেতনা থেকে সরে এসে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি করছে।

রোববার (১১ মে) বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেন, “জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বিচার, সংস্কার, বৈষম্য দূর করা এবং নতুন সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্র পুনর্গঠন। কিন্তু সরকার গঠনের পর বিএনপি সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে, যার ফলেই আজকের এই রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদকে সমর্থন দিয়েছে। জনগণের সেই রায় উপেক্ষা করে কেউ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে জনগণের সমর্থন, নীতি-নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন।”

কর্নেল অলি বলেন, দেশের দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সামাজিক অস্থিরতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারকে এখন জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ বন্ধেরও দাবি জানান।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন মহানগর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখন গণভোটের রায় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের বিষয়ে নীরবতা দেখা যাচ্ছে। জনগণের প্রত্যক্ষ রায়কে উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হবে।

তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদের যেসব বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে, জনগণ গণভোটে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। পাঁচ কোটি মানুষের রায় অস্বীকার করে কেউ টেকসই রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়তে পারবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “জনগণের অভিপ্রায় নিয়ে খেলা করা হলে অতীতের মতো ভয়াবহ রাজনৈতিক পরিণতি তৈরি হতে পারে। এখন সময় ঐক্যের ভিত্তিতে সংস্কার বাস্তবায়নের।”

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, “গণভোট জনগণের সার্বভৌম মতামতের সাংবিধানিক বহিঃপ্রকাশ। ইতিহাস প্রমাণ করে, জনগণের রায় অগ্রাহ্য করে কোনো শাসনব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, “সংসদে সহযোগিতার মানসিকতাকে দুর্বলতা ভাবার সুযোগ নেই। জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করা হলে আন্দোলনের পথেই দাবি আদায় করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে তা উপেক্ষা করে সরকার রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। জুলাই সনদকে সাংবিধানিক মর্যাদা দিয়ে জবাবদিহিমূলক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন করতে হবে।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন জামায়াত নেতা আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এমপি, অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি, ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ শহীদুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।

অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংবিধানিক সংস্কার, গণভোটের বৈধতা ও জনগণের প্রত্যাশা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। বক্তারা দাবি করেন, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই দেশে স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।