গ্যাস সংকটে অচল শত শত কারখানা, কর্মহীন লাখো শ্রমিক

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৫ এএম
গ্যাস সংকটে অচল শত শত কারখানা, কর্মহীন লাখো শ্রমিক

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় শিল্পকারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বুধবার থেকে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় শত শত কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে লাখ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।


গ্যাসের অভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্যাসনির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো। উৎপাদন বন্ধ থাকায় উদ্যোক্তারা যেমন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, তেমনি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোতে সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী হলে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার বাতিলের আশঙ্কাও করছেন ব্যবসায়ীরা।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সংকট এখন শুধু জ্বালানি সমস্যা নয়; এর প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থান, উৎপাদন, রপ্তানি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিল্প খাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।


গ্যাস সংকটে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জেলার ছোট-বড় ১৭১টি শিল্পকারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে গ্যাস সরবরাহ কমতে শুরু করলেও বুধবার থেকে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সংকট দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকদের চাকরি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্পোদ্যোক্তারা।


এ দিকে নারায়ণগঞ্জেও গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে গেছে। এতে প্রায় ৪৫০টি ডায়িং কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ডায়িং কারখানা থেকে কাপড় না পাওয়ায় শতাধিক গার্মেন্ট কারখানাও উৎপাদন বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে।


বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানান, গ্যাসের চাপ একেবারে শূন্যের কাছাকাছি থাকায় ডায়িং কারখানা থেকে প্রয়োজনীয় ফ্যাব্রিক্স পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।


গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলেও। প্রায় দেড় হাজার শিল্পকারখানার মধ্যে গ্যাসনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।


শিল্পমালিকদের তথ্যমতে, উৎপাদনের জন্য যেখানে ১০ থেকে ১৫ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৮ পিএসআই। কোথাও চাপ আরও কম। ফলে কোনো কারখানায় সীমিত পরিসরে উৎপাদন চলছে, আবার কোনোটি পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে।


চলতি মাসে সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানায় কয়েক হাজার শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে শ্রমিকদের মধ্যে চাকরি হারানোর আতঙ্কও বাড়ছে।


দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল গাজীপুরেও গ্যাস সংকটে বহু কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিশেষ করে রপ্তানিমুখী কারখানাগুলো বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।


উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, সংকট দ্রুত সমাধান করা না গেলে নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাঠানো সম্ভব হবে না। এতে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার বাতিলের পাশাপাশি রপ্তানি আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শিল্প খাত বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে। দ্রুত সমাধান না হলে শিল্পকারখানা সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।


শিল্পোদ্যোক্তাদের মতে, গ্যাস সংকট অব্যাহত থাকলে শুধু কারখানার উৎপাদনই নয়, কর্মসংস্থান, রপ্তানি ও অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।


সূত্র: যুগান্তর