লেখক হতে গেলে যা করণীয়
লেখক হতে গেলে শুধু ভালো লিখলেই হয় না, ভালোভাবে “দেখতে”, “অনুভব করতে” এবং “মানুষকে বুঝতে” জানতে হয়। লেখালেখি একদিনে তৈরি হয় না; এটা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা একটা সাধনা।
১. প্রচুর বই পড়তে হবে:
ভালো লেখক হওয়ার প্রথম শর্ত— ভালো পাঠক হওয়া।
বাংলা ও বিশ্বসাহিত্য পড়ুন। যেমন—
ঈমাম গাজ্জালী
কাজী নজরুল ইসলাম
ইউলিয়াম শেক্সপিয়র
মির্জা গালিব
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
হুমায়ূন আহমেদ
পড়লে ভাষা, ভাব, ছন্দ ও গল্প বলার কৌশল তৈরি হয়।
২. প্রতিদিন লিখতে হবে:
অনুপ্রেরণার জন্য অপেক্ষা করলে লেখক হওয়া কঠিন।
প্রতিদিন কিছু লিখুন—
ডায়েরি
ছোট কবিতা
গল্প
অনুভূতি
ভ্রমণকাহিনি।
শুরুতে লেখা দুর্বল লাগলেও থামবেন না।
৩. নিজের ভাষা খুঁজে বের করুন
অন্য কারও মতো লিখতে গেলে আপনি “অনুকরণকারী” হবেন, লেখক না।
নিজের অনুভূতি, শব্দচয়ন ও ভাব প্রকাশের ধরন তৈরি করুন।
৪. বাস্তব জীবন পর্যবেক্ষণ করুন:
মানুষের হাসি, কষ্ট, প্রেম, অভিমান, রাগ—এসবই সাহিত্যের উপাদান।
ভালো লেখকরা সাধারণ ঘটনার মধ্যেও গল্প খুঁজে পান।
৫. সমালোচনা গ্রহণ করতে শিখুন
সবাই প্রশংসা করবে না।
কেউ ভুল ধরলে রাগ না করে বুঝতে চেষ্টা করুন কোথায় উন্নতি করা যায়।
৬. ভাষা ও ব্যাকরণে দক্ষ হন:
সুন্দর ভাবনা থাকলেও ভাষা দুর্বল হলে লেখা শক্তিশালী হয় না।
বানান, যতিচিহ্ন, বাক্যগঠন— এসব অনুশীলন জরুরি।
৭. অনুভূতিকে গভীর করুন:
ভালো লেখা আসে গভীর অনুভব থেকে।
শুধু প্রেম নয়—
শূন্যতা
অপেক্ষা
সমাজ
মানুষ
মৃত্যু
প্রকৃতি
এসব নিয়েও ভাবুন।
৮. প্রকাশের সাহস রাখতে হবে:
লিখে লুকিয়ে রাখলে হবে না।
ম্যাগাজিনে পাঠান
ফেসবুকে পোস্ট করুন
বই প্রকাশ করুন
সাহিত্য গ্রুপে যুক্ত হন।
৯. ধৈর্য রাখতে হবে:
প্রথম বই দিয়েই বিখ্যাত হওয়া খুব বিরল।
অনেক বড় লেখকও শুরুতে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন।
১০. কেন লিখছেন— এটা জানুন:
খ্যাতির জন্য লিখলে লেখা টেকে না।
ভেতরের সত্য, অনুভূতি ও মানুষের হৃদয়ে পৌঁছানোর ইচ্ছা থেকেই বড় সাহিত্য জন্ম নেয়।
মনে রাখবেন, লেখক হওয়া মানে শুধু শব্দ সাজানো নয়; মানুষের অনুভূতিকে ভাষা দিতে পারাই প্রকৃত লেখক হওয়ার শুরু।
লেখা:
ওমায়ের আহমেদ শাওন
(লেখক, কলামিস্ট ও গণমাধ্যম বিশ্লেষক)।









