শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে যে ১০ জেলায়

প্রকাশিত: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২০ পিএম
শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে যে ১০ জেলায়

ডেস্ক রিপোর্টঃ

দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা আরও কমেছে। এ অবস্থায় বুধবার (৭ জানুয়ারি) দেশের ১০ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত নিয়মিত আবহাওয়া বুলেটিনে জানানো হয়, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট লঘুচাপটি বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও আরও ঘনীভূত হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি বর্ধিতাংশ বিস্তৃত রয়েছে।

এ ছাড়া উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের একটি বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে। এসব আবহাওয়াগত অবস্থার কারণে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোথাও কোথাও এই কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

যেসব জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে সেগুলো হলো— রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙামাটি, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া। এসব অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

বুলেটিনে আরও বলা হয়, সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া ও সূর্যের আলো কম পাওয়ায় শীতের অনুভূতি কমবে না।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন। একই সময়ে রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ জানান, বায়ুদূষণের কারণে বাতাসে ভাসমান বস্তুকণার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় কুয়াশা সহজে কাটছে না। ফলে সূর্যের আলো কম পাওয়া যাচ্ছে এবং এতে শীতের অনুভূতি আরও বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী। বিভিন্ন হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বেড়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী সতর্কতা জারি করা হবে।

বা/মে২৪/ফা