জুলাই আন্দোলনে বিএনপি: নৈতিক সমর্থন থেকে রাজপথে

প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
জুলাই আন্দোলনে বিএনপি: নৈতিক সমর্থন থেকে রাজপথে

সূত্রঃ ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক


জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শুরুতে নৈতিক সমর্থন, পরে সরাসরি মাঠে নেমে আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ—এমনটাই দাবি করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির নেতাদের ভাষ্য, আন্দোলনের প্রথম দিকে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বকে অক্ষুণ্ন রাখতে তারা দলীয় ব্যানারে কর্মসূচি না দিয়ে সংহতি প্রকাশ করে। তবে সরকার আন্দোলন দমনে শক্তি প্রয়োগ ও হত্যাকাণ্ড শুরু করলে বিএনপি নেতাকর্মীদের সরাসরি আন্দোলনে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।


২০২৪ সালের ১ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ধীরে ধীরে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। আন্দোলনের শুরুতে এটি ছিল সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কেবল নৈতিক সমর্থন জানায়।


বিএনপির দাবি, তারা প্রথমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং ৬ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানায়। সেদিন এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শিক্ষার্থীদের দাবিকে ন্যায়সঙ্গত ও যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে সরকারকে তা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।


অন্যদিকে আন্দোলনের তীব্রতা বাড়লে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার অভিযোগ তোলে যে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি জানায়, তারা আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয়, কেবল নৈতিক সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। পরে বিএনপির মহাসচিব দাবি করেন, আন্দোলনের পুরো সময় ছাত্রনেতাদের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং নানা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে সারাদেশে সহিংসতা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা বেড়ে গেলে বিএনপি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানায়। দলটির দাবি, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে তাদের ৪২২ জন নেতাকর্মী নিহত এবং প্রায় ৯ হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হন। আন্দোলনে অংশগ্রহণ নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠলেও বিএনপির নেতারা বলেন, যদি তারা আন্দোলনে না-ই থাকতেন, তাহলে এত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কীভাবে গ্রেপ্তার ও হতাহতের শিকার হলেন।


জুলাই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও আলোচনায় আসে। বিএনপির কিছু নেতা তারেক রহমানের ভূমিকার কথা বললেও তিনি নিজেই এক সাক্ষাৎকারে জানান, এটি কোনো এক ব্যক্তির আন্দোলন নয়; বরং গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম, যেখানে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি অবদান রেখেছে।


ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের দাবি, আন্দোলনের শুরু থেকেই তাদের নেতাকর্মীরা ধাপে ধাপে কর্মসূচিতে যুক্ত হন। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনের প্রায় প্রতিটি কর্মসূচিতে তারা সক্রিয় ছিলেন। ছাত্রদলের দাবি, আন্দোলনে তাদের ১৪২ জন নেতাকর্মী নিহত হন। অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবক দল জানায়, তাদের শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছেন।


বিএনপির নেতাদের মতে, জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়ন। তাদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার এ লক্ষ্যে কিছু অগ্রগতি অর্জন করলেও অসমাপ্ত সংস্কারকাজ ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার ধাপে ধাপে সম্পন্ন করবে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন দলটির নেতারা।


এমকে/বিএম২৪