প্রতিদিন ৫ হাজার সিঁড়ি পেরিয়ে নামাজ পড়ান তুর্কি ইমাম
সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রতিদিন খাড়া ও দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ঐতিহাসিক একটি দুর্গের চূড়ায় অবস্থিত মসজিদে পৌঁছান তুরস্কের ইমাম সিবগাতুল্লাহ বিলমেজ। সেখানে আজান দেওয়া, নামাজের ইমামতি করা এবং দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের সেবা করাই তার প্রতিদিনের দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাকে অতিক্রম করতে হয় প্রায় পাঁচ হাজার সিঁড়ি।
তুরস্কের ঐতিহাসিক ভান দুর্গের চূড়ায় অবস্থিত সুলাইমান খান মসজিদের ভারপ্রাপ্ত ইমাম হিসেবে গত পাঁচ মাস ধরে দায়িত্ব পালন করছেন বিলমেজ। আতাতুর্ক সাংস্কৃতিক উদ্যান থেকে পাথুরে পথ বেয়ে মসজিদে পৌঁছাতে প্রতিদিনই তাকে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাত্রা করতে হয়।
এর আগে ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর ও স্থানীয় মুফতি কার্যালয়ের অধীনে পাঁচ বছর বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করতে হলেও নিজের কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট এই ইমাম।
বিলমেজ জানান, দীর্ঘ পথ অতিক্রম করলে শারীরিক ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক। তবে তিনি স্বেচ্ছায় ও আগ্রহের সঙ্গে এ দায়িত্ব পালন করছেন এবং কাজটি উপভোগ করেন।
নিয়ম অনুযায়ী, জোহরের নামাজের আগেই তিনি পাহাড়ি পথ বেয়ে মসজিদে পৌঁছান। মাগরিবের নামাজ শেষে আবার নিচে নেমে আসেন। দুর্গম অবস্থানের কারণে এশা ও ফজরের সময় সাধারণ মুসল্লিদের যাতায়াত কঠিন হওয়ায় ওই দুই ওয়াক্তে মসজিদটিতে জামাত অনুষ্ঠিত হয় না।
ভান দুর্গের চূড়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক এই মসজিদটির নির্মাণের সঠিক সময় জানা যায়নি। তবে ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৫৩৪ সালে উসমানীয় সুলতান সুলাইমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট মসজিদটি পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করেন। দীর্ঘ সময় পর তিন বছর আগে স্থাপনাটি আবার সংস্কার করে মুসল্লিদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
দুর্গ দেখতে আসা পর্যটকদের কাছেও মসজিদটি বিশেষ আকর্ষণীয়। ইমামতির পাশাপাশি বিলমেজ দর্শনার্থীদের স্বাগত জানান এবং প্রাচীন ভান নগরী, উরার্তু সভ্যতার ঐতিহাসিক দুর্গ ও সুলাইমান খান মসজিদের ইতিহাস তুলে ধরেন।
বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতে গিয়ে তার ইংরেজি ভাষায় দক্ষতাও বেড়েছে। বর্তমানে তিনি সহজেই বিদেশি দর্শনার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ইসলাম ও এর ঐতিহ্য নিয়ে তাদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।
প্রতিদিনের দীর্ঘ যাত্রা শেষে দুর্গের চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারপাশের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখলে তার শারীরিক ক্লান্তি দূর হয়ে যায় বলে জানান বিলমেজ। পর্যটকদের ভালোবাসা এবং ‘আল্লাহ আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হোন’—এমন দোয়া পাওয়াকে জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি বলে মনে করেন তিনি।
এমকে/বিএম২৪









