বুটেক্সের একাডেমিক কাজ সহজ করতে মৃদুলের ‘ইউনিগ্রিড’ অ্যাপ
সংগৃহীত
বুটেক্স প্রতিনিধি
ক্লাসের রুটিন, গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ কিংবা লেকচার স্লাইড খুঁজতে বারবার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ঢুঁ মারা—বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) শিক্ষার্থীদের এমন ভোগান্তি কমাতে ‘ইউনিগ্রিড’ নামে একটি অ্যাপ তৈরি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাছান মৃদুল। অ্যাপটিতে এক জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে রুটিন, নোটিশ, পড়ার উপকরণসহ বিভিন্ন একাডেমিক তথ্য।
মৃদুল বুটেক্সের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাঁর তৈরি অ্যাপটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে জানতে পারছেন।
এক অ্যাপেই প্রয়োজনীয় তথ্য
ইউনিগ্রিডে রয়েছে ক্লাসের রুটিন, গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ, শিক্ষকদের দেওয়া পড়ার উপকরণ, পরীক্ষার কাউন্টডাউন ও গ্রুপ চ্যাটের সুবিধা। শ্রেণি প্রতিনিধি (সিআর) বা শিক্ষক রুটিন পরিবর্তন করলে ব্যবহারকারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিফিকেশন পান। এ ছাড়া কোন কোর্সে কতটি ক্লাস হয়েছে এবং কতটি ক্লাসে অনুপস্থিত ছিলেন, তা-ও দেখার সুযোগ রয়েছে।
অ্যাপটিতে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে রুটিন পরিবর্তন ও পড়ার উপকরণ আপলোডের দায়িত্ব নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে রাখা হয়েছে। নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজন হয় সিআরের অনুমোদন। গ্রুপ চ্যাটে আপত্তিকর কোনো বার্তা থাকলে তা প্রশাসনকে জানানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।
আইপিই বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শ্রেণি প্রতিনিধি মার্জিয়া বিনতে হাসান বলেন, সিআর হিসেবে ক্লাসের সংখ্যা হিসাব রাখা, নোটিশ দেওয়া এবং রুটিন পরিবর্তনের খবর দ্রুত জানানোসহ নানা কাজ করতে হয়। ইউনিগ্রিডের মাধ্যমে এসব কাজ একসঙ্গে সহজে করা সম্ভব হচ্ছে।
সময় ও পরিশ্রম কমছে শিক্ষার্থীদের
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আতিক শাহরিয়ার তমাল অ্যাপটির একজন ব্যবহারকারী। তাঁর মতে, প্রয়োজনীয় তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের সময় ও পরিশ্রম দুটিই কমছে। অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের পাশাপাশি ওয়েব সংস্করণ থাকায় বিভিন্ন ডিভাইস থেকেও এটি ব্যবহার করা যায়। সিআর বা প্রশাসকের অনুমোদনের ব্যবস্থা থাকায় তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও আস্থা রাখা যায়।
একাই তৈরি করেছেন মৃদুল
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউনিগ্রিড তৈরির কাজ শুরু করেন মৃদুল। জুলাইয়ের মধ্যে অ্যাপটি ব্যবহার উপযোগী করে তোলেন তিনি। পুরো কারিগরি উন্নয়নের কাজ একাই করেছেন। পরে আইপিই বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মার্জিয়া ও মিজান অ্যাপটি ব্যবহার করে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে অ্যাপটির ত্রুটি সংশোধন ও উন্নয়ন করা হয়।
অ্যাপটি তৈরিতে ফ্লাটার ফ্রেমওয়ার্ক ও ডার্ট প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করেছেন মৃদুল। তথ্য সংরক্ষণ, হালনাগাদ এবং নোটিফিকেশন পাঠানোর জন্য ব্যবহার করেছেন ফায়ারবেস ও সুপাবেস।
মৃদুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অ্যাপটির ব্যবহারকারী ৫৮০ জনের বেশি। তাঁদের বড় অংশ আইপিই ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বর্তমানে বিনা মূল্যের সেবা ব্যবহার করে অ্যাপটির তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তবে ব্যবহারকারী ও ফাইলের সংখ্যা বাড়লে পরিচালন ব্যয়ও বাড়তে পারে। আইফোনের জন্য অ্যাপ স্টোরে এখনো সংস্করণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে ওয়েব সংস্করণের মাধ্যমে অ্যাপটি ব্যবহার করা যাচ্ছে।
ভবিষ্যতে শিক্ষকদের সরাসরি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে ক্লাসের তথ্য হালনাগাদের ব্যবস্থা করতে চান মৃদুল। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
আপাতত বুটেক্সের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক তথ্য আদান-প্রদান সহজ করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য এক জায়গায় পৌঁছে দেওয়াই মৃদুলের প্রধান লক্ষ্য।
এমকে/বিএম২৪









