নাসিরনগরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ
সংগৃহীত
জায়েদ হোসেন, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। সীমিত আয়ে সংসারের খরচ মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। বাজারের এমন পরিস্থিতিতে অনেক পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে।
উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, শাকসবজি, ডিম, ব্রয়লার মুরগি থেকে শুরু করে মাছ-মাংস ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। মুদি পণ্য থেকে শুরু করে পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও ক্রেতাদের ভাবিয়ে তুলছে। ফলে সীমিত আয়ের অনেক পরিবার প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করতে পারছেন না।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, নানা অজুহাতে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। তাদের অভিযোগ, কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার আশায় পণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। নিয়মিত বাজার তদারকি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ ধরনের প্রবণতা কমানো সম্ভব।
ক্রেতাদের ভাষ্য, আয় বাড়ার তুলনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেশি থাকায় সংসারের ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে যে পরিমাণ পণ্য কেনা সম্ভব হতো, এখন একই টাকায় তার চেয়ে কম পণ্য কিনতে হচ্ছে। ফলে অনেক পরিবারকে প্রয়োজনীয় কেনাকাটায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিক্রেতারা বলছেন, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেশি। আড়তে পর্যাপ্ত সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগের তুলনায় কম সবজি আসায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। এসব কারণে দ্রুত দাম কমার সম্ভাবনা দেখছেন না অনেক বিক্রেতা।
নিত্যপণ্যের পাশাপাশি ফলের বাজারেও চড়া দামের প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে আমদানি করা ফলের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। আপেল, মাল্টা, আঙুরসহ বিভিন্ন ফলের দাম গত কয়েক সপ্তাহে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। ফলে অনেক পরিবারকে পুষ্টিকর খাবারের তালিকা থেকে ফল বাদ দিতে হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পণ্যের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্যহীনতা, পরিবহন ব্যয় এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ক্রেতাদের অভিযোগ, কোথাও কোথাও অতিরিক্ত মুনাফা, মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকটের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত তদারকি, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দামের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই পরিস্থিতিতে নাসিরনগরের সাধারণ মানুষ বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী দামে পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত হলে সীমিত আয়ের পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তি ফিরে পাবে বলে মনে করছেন ক্রেতারা।
এমকে/বিএম২৪









