কোরিয়ার সঙ্গে সিইপিএ, ৯৭% বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক সুবিধা

প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
কোরিয়ার সঙ্গে সিইপিএ, ৯৭% বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক সুবিধা

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সই হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পাবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার ৮৭ শতাংশ পণ্যও একই ধরনের সুবিধার আওতায় আসবে।


মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চুক্তিটি সই হয়। পরে সিইপিএ নেগোসিয়েশন কনক্লুশন সিরিমনি শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।


বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে এ চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। সরকারের পাঁচ মাসের মধ্যেই এটি প্রথম সিইপিএ চুক্তি, যা দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


তিনি জানান, এই চুক্তির আওতায় তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন রপ্তানি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ায় শুল্ক সুবিধা পাবে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক এবং বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিও সহজ হবে।


মন্ত্রী আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন জরুরি। এ লক্ষ্য পূরণে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য এ ধরনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন, বাংলাদেশ ও কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাস ৫৬ বছরের। টেক্সটাইল খাত দিয়ে শুরু হলেও এখন সময় এসেছে দুই দেশের মধ্যে বহুমুখী পণ্য বাণিজ্য, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে (সাপ্লাই চেইন) যৌথভাবে কাজ করার।


তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং এই চুক্তির ফলে কোরিয়ান কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগে আগ্রহী হবে।


বর্তমানে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয় প্রায় ৪৯১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, আর দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি হয় প্রায় ৯০২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।


দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য এবং সিরামিক পণ্য। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে লোহা ও ইস্পাত, শিল্প যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিকজাত পণ্য, রাসায়নিক দ্রব্য এবং কাগজজাত পণ্য আমদানি করা হয়।


এমকে/বিডিমেইল২৪