তিন মাস পর পুলিশের জালে ‘বডি সোহেল’ — আমির হামজা হত্যা মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি
প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের চিতলমারীতে সংঘটিত আলোচিত আমির হামজা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোঃ সোহেল প্রধান ওরফে বডি সোহেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা এই আসামিকে আটক করতে চিতলমারী থানা পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে কাজ করে আসছিল।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২০ জুন সন্ধ্যায় বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার নোয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে র্যাব-৬, খুলনা সদস্যরা অংশ নেন। পুরো অভিযানের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তদারকি করেন চিতলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ রোকেয়া খানম।
গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল প্রধান খুলনা মহানগরীর চানমারী এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি আমির হামজা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৬ নম্বর আসামি। তার বিরুদ্ধে চিতলমারী থানায় দায়েরকৃত মামলা নং-১৬, জিআর নং-৪২, তারিখ ২৭ মার্চ ২০২৬, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোডে মামলা চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ বিকেলে শিবপুর গ্রামে নিজ বাড়ির এলাকায় নির্মম হত্যার শিকার হন কলেজ শিক্ষার্থী আমির হামজা। তিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজে অধ্যয়নরত ছিলেন এবং পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
মামলার তদন্তে উঠে এসেছে, তিনটি মোটরসাইকেলে করে ছয়জন ব্যক্তি হেলমেট পরে ঘটনাস্থলে যায়। তারা নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে আমির হামজাকে অনুসরণ করতে থাকে। প্রাণভয়ে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধাওয়া করে চিত্রা নদীর তীরবর্তী এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তার মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
এই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। সেই দাবির প্রেক্ষিতে পুলিশ ধারাবাহিক তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে মামলার আরেক আসামি ব্ল্যাক বাপ্পিকে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সর্বশেষ বডি সোহেলের গ্রেপ্তার প্রমাণ করে যে তদন্তকারী সংস্থা মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওসি রোকেয়া খানম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অপরাধ দমন ও পলাতক আসামি গ্রেপ্তারে বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। বিশেষ করে আলোচিত এই হত্যা মামলার তদন্তে তার নিবিড় তদারকি ও বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের ফলে একের পর এক আসামিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার অবশিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলমান থাকবে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।









