চট্টগ্রাম লালখান বাজারে মাদক ও কিশোর গ্যাং নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ: মানববন্ধনে উঠে এলো ‘ইয়াবা নেটওয়ার্ক’ ও ছায়া শক্তির ইঙ্গিত
মোহাম্মদ ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার নিয়ে আবারও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চল যাই যুদ্ধে, মাদক ও কিশোর গ্যাং এর বিরুদ্ধে এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১৪ নং লালখান বাজার ওয়ার্ড বিএনপি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে শুধু প্রতিবাদই নয়, উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও স্থানীয় নেটওয়ার্ক নিয়ে প্রশ্ন।
শনিবার (০৯ মে) বিকাল ৩টায় শামসী কলোনী শহীদ মিনারের সামনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। তবে মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মাদক চক্র ও কিশোর গ্যাংয়ের কথিত বিস্তার নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাৎ হোসেন। তিনি বলেন, “মাদক একটি মানুষকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে। মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত যে কেউ হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতেই হবে।”
তিনি আরও বলেন, “তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে হলে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে একসাথে কাজ করতে হবে। কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছি এবং এই অভিযান চলমান থাকবে।
তিনি দাবি করেন, মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় কাজ করার চেষ্টা করে। তবে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে ছাড় দেবে না। তথ্য পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ: অদৃশ্য নেটওয়ার্ক?
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংগঠিত মাদক নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে, যা তরুণদের একটি অংশকে কিশোর গ্যাং কার্যক্রমে যুক্ত করছে।
স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ অভিযোগ করেন, “বেলাল ওরফে ইয়াবা বেলাল” নামে পরিচিত একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি চক্র এলাকায় সক্রিয় রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ২০–২৫ জন তরুণ এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং মাদক বাণিজ্য পরিচালিত হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি....
মানববন্ধনে যেসব নাম ও অভিযোগ উঠে এসেছে, তা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে লালখান বাজারে মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর? স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের নেটওয়ার্ক কীভাবে টিকে আছে, এবং কারা এর পেছনে রয়েছে এ নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো উত্তর মেলেনি।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু ঘোষণা নয়, মাঠ পর্যায়ে কার্যকর অভিযান এবং নিয়মিত নজরদারি ছাড়া মাদক ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
মানববন্ধনের শেষে অংশগ্রহণকারীরা মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়ন এবং দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।








