নারীকে কুপিয়ে জখম, লুট ও মামলা তদন্ত কর্তার গাফিলতি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
নারীকে কুপিয়ে জখম, লুট ও মামলা তদন্ত কর্তার গাফিলতি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

মালিকুজ্জামান কাকা :

প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভুগির ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, হত্যাচেষ্টা, স্বর্ণালংকার লুট, শ্লীলতাহানি এবং মামলা তদন্তে পুলিশ কর্তার গাফিলতির অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন ঝিকরগাছা উপজেলার শিওরদাহ গ্রামের বাসিন্দা মুর্শিদা আক্তার (রেনুকা)। তিনি মনিরুজ্জামান মনিরের স্ত্রী।

রবিবার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভুগি মুর্শিদা আক্তার রেনুকা। এসময় উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদা আক্তারের বাবা ইজ্জত আলী, বোন নুরুন্নাহার, স্বামী মনিরুজ্জামান মনির, ভাই শাহ আলম, চাচা গোলাম হোসেন, দুলাভাই আলিম হোসেন ও দুই শিশু।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ দুপুরে তার পিত্রালয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে তাদের বাড়িতে চলমান রান্নাঘর মেরামতের কাজে বাধা দেয়। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটির জেরে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

তিনি অভিযোগ করেন, ঝিকরগাছা উপজেলার শিওরদাহ গ্রামের মৃত বাবর আলী গাজীর ছেলে ইসমাইল হোসেন গাজী, আজিজুর রহমানের ছেলে ইমরান হোসেন সরদার, লিয়াকত আলীর ছেলে আজিজুর রহমান রিপন, মৃত ইমান আলী সরদারের ছেলে হাসেম আলী সরদার, ইসমাইল হোসেনের পালিত ছেলে সুমন কবীর, মেসের আলী সরদারের ছেলে মিন্টু সরদার, ইসমাইল হোসেনের ছেলে সাকিব হোসেন, মৃত হাসানুজ্জামানের ছেলে তানজিম হাসানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন এ হামলার সঙ্গে জড়িত।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা ধারালো দা ও চাকু দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এসময় তার গলায় থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং ৬ আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া হামলার সময় তাকে শ্লীলতাহানির শিকারও হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিনি সাতদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে বার বার নির্দেশ দিলেও হাসপাতাল কতৃপক্ষ মেডিকেল সনদ দেয়নি। 

ঘটনার পর তিনি ঝিকরগাছা আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি জি.আর-৪৬/২৫ নম্বরে রুজু হয়। মামলায় ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৩৭৯/৫০৬(২) দণ্ডবিধির ধারায় অভিযোগ।

সংবাদ সম্মেলনে মুর্শিদা আক্তার অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তে প্রকৃত ঘটনা প্রতিফলিত হয়নি। প্রভাবশালী কয়েকজন আসামিকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ইসমাইল হোসেন, তার ছেলে সাকিব হোসেন, আজিজুর রহমান রিপন হোসেন, তামজিদ ও সুমন হোসেনকে চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

তিনি আরও দাবি করেন, মামলার এক আসামি তামজিদ আদালত থেকে জামিন না নিয়েই সৌদি আরবে চলে গেছেন। এছাড়া ইসমাইল হোসেন ও তার ছেলে সাকিব হোসেন জামিন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। অথচ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে গাফিলতি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মুর্শিদা আক্তার বলেন, মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে হাসেম হোসেন ও ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হলেও প্রভাবশালী আসামিদের রক্ষায় বিভিন্ন মহল তৎপর। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে আসামিরা জামিনে মুক্ত থেকে মামলা তুলে নিতে তাকে ও তার পরিবারকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও পুলিশ তাদের আটক করছে না।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে মামলার পুনঃতদন্ত, সকল আসামির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ চার্জশিট দাখিল এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সাথে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সনদ দাবি করেন তিনি। কেননা সাত দিন ভর্তি থাকলেও হাসপাতালে দুই দিন ভর্তি দেখানো হচ্ছে। অতি উৎসাহী হিসাবে ঝিকরগাছা হাসপাতাল কতৃপক্ষ প্রদত্ত মেডিকেল সনদ দেওয়াকে আসামি যোগাসাজস ধারণা করা হচ্ছে। একটি প্রশ্ন বোধক সনদপত্র দেয়া হয়েছে।