ঈদগাঁওতে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাহেদুল ইসলামের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
নাছির নোমান, ঈদগাঁও প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ সাহেদুল ইসলামকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত “মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঈদগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি ব্যবসায়ী কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাহেদুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক নিউজ পোর্টাল “টিটিএন”-এ প্রকাশিত “ঈদগাঁও কালিরছড়ায় সাহেদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ব্যাগে কি ছিল— বিশ হাজার ইয়াবা নাকি টাকা” শীর্ষক সংবাদটি তার দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও অনুমাননির্ভর।
তিনি বলেন, “আমার বাবা-চাচারা সবাই ঈদগাঁও বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। পারিবারিকভাবে ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থেকে আজ আমি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছি। বর্তমানে ‘রামু খেলাঘর’ নামের খেলার সরঞ্জামের দোকানটি পুরো কক্সবাজার জেলায় সুনামের সঙ্গে পরিচিত। এছাড়াও আমাদের পরিবারের একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঈদগাঁও বাজারে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “গত ২৫ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। কখনও কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড বা আয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না, এখনও নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকব না ইনশাআল্লাহ। আমাকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। কোথায়, কখন, কিভাবে এবং কার কাছ থেকে কি ছিনতাই হয়েছে— তারও কোনো সঠিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।”
সাহেদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি তার ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, গত ৫ মে বিকেলে ‘রামু খেলাঘর’ দোকানের এক সপ্তাহের বিক্রির প্রায় ৮ লাখ টাকা একটি ব্যাগে নিয়ে সিএনজি যোগে ঈদগাঁওয়ে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে পানিরছড়া এলাকায় সিএনজি বিকল হয়ে গেলে তিনি একটি টমটম গাড়িতে ওঠেন। পরে কালিরছড়া তেঁতুলতলা এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন যুবক দেশীয় অস্ত্রের মুখে তার টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
তিনি জানান, ছিনতাইকারীরা হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরিহিত থাকায় কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে বিষয়টি শুভাকাঙ্ক্ষীদের জানালে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কাউকে শনাক্ত করতে না পারা এবং অসুস্থ বাবার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তিনি জিডি করেননি।
এছাড়া ঈদগাঁও থানার এক উপ-পরিদর্শকের সঙ্গে পরামর্শ করলে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না থাকায় জিডি না করার পরামর্শও পান বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ব্যবসার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত রয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও সততা ও সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করতে চান।








