ইয়াবা আটকের সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের থানায় ডেকে লিখিত নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
ইয়াবা আটকের সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের থানায় ডেকে লিখিত নেওয়ার অভিযোগ

‎কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:

‎কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ইয়াবা ও ধারালো অস্ত্রসহ এক যুবককে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের থানায় ডেকে লিখিত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

‎জানা যায়, গত ২৮ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, অষ্টগ্রাম উপজেলার পূর্ব দাসপাড়া এলাকায় উজ্জ্বল মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে স্থানীয় লোকজন আটক করে। অভিযোগ রয়েছে, তার কাছ থেকে চার পিস ইয়াবা, একটি টর্চ লাইট একটি ছুরি ও একটি কাঁচি উদ্ধার করা হয়। পরে এলাকাবাসী অষ্টগ্রাম থানায় খবর দিলে এসআই হানিফ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উজ্জ্বল মিয়াকে থানায় নিয়ে আসেন।

‎পরদিন ২৯ জুন সকালে ওই ব্যক্তিকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়রা জানতে চান কীভাবে তিনি মুক্তি পেলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ সময় উজ্জ্বল মিয়া বলেন, তার বড় ভাই হৃদয় মিয়া ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে থানাকে ম্যানেজ করে তাকে ছাড়িয়ে এনেছেন। তবে এই বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকনুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, কোনো টাকার বিনিময়ে নয়, মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎একই দিন ২৯ জুন দৈনিক বাংলাদেশ মেইল, দৈনিক জনজাগরণ, দৈনিক কালপ্রকাশসহ একাধিক অনলাইন সংবাদমাধ্যমে "ইয়াবা ও ছুরি সহ যুবক আটক, ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে মুক্তির অভিযোগ" শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

‎এরপর ৩০ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে অষ্টগ্রাম থানায় সাংবাদিকদের একটি সভা রয়েছে বলে দৈনিক সকালের সময়ের অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি মাহবুব আলম, বাংলাদেশ মেইল ২৪ এর অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী এ আর সুমন ও দৈনিক জনজাগরণ পত্রিকার অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ আল-আমিন মিয়াকে থানায় যেতে বলেন। তারা থানায় পৌঁছে দেখতে পান, বিভিন্ন গণমাধ্যমের আরও কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত রয়েছেন।

‎সভায় ওসি রোকনুজ্জামান সাংবাদিকদের উদ্দেশে জানতে চান, প্রকাশিত সংবাদের পক্ষে তাদের কাছে কোনো প্রমাণ আছে কি না। এ সময় সাংবাদিক এ আর সুমন ও মোহাম্মদ আল-আমিন তাদের কাছে থাকা আংশিক ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শন করেন। ভিডিওটি দেখার পর ওসি জানান, এই ভিডিও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে না।

‎এরপর উপস্থিত সাংবাদিকদের দাবি, ওসি তাদের বলেন, প্রকাশিত সংবাদের তথ্য ভুল—এ মর্মে একটি লিখিত বক্তব্য দিতে হবে। পরে উপস্থিত সাংবাদিক নাদিরুজ্জামান আজমল একটি সাদা কাগজে লিখে দেন, "উপস্থিত সকল সাংবাদিকের সম্মুখে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করা হলে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা পাওয়া যায়নি।" পরবর্তীতে ওই কাগজে সাংবাদিক এ আর সুমন ও সাংবাদিক মোহাম্মদ আল-আমিন মিয়াসহ উপস্থিত সাংবাদিকদের স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।

‎এ ঘটনায় সাংবাদিকদের একটি অংশের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পর তাদের থানায় ডেকে এ ধরনের লিখিত নেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী এবং এটি সংবাদকর্মীদের ওপর এক ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

‎তবে এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম থানার পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের দিয়ে জোরপূর্বক লিখিত নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎সাংবাদিকরা জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন এবং প্রয়োজনে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণসহ পরবর্তী আইনি ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।‌