সিংগাইরে নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে কচুরিপানা অপসারণ

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
সিংগাইরে নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে কচুরিপানা অপসারণ

সূত্রঃ সংগৃহীত

সোহরাব হোসেন, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি


‘নদী বাঁচলে বাঁচবে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর (ধলেশ্বরী) নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ সচল রাখতে স্বেচ্ছাশ্রমে কচুরিপানা অপসারণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।


মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার চান্দহর বাজার এলাকায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। চান্দহর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও চান্দহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আমজাদ হোসেন। সঞ্চালনা করেন চান্দহর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আজিজুল হক টিক্কা।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত বলেন, “২০০৬ সালে আমি এমপি হওয়ার পর চান্দহর নদীকে অভয়ারণ্য ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এ নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য ডিও লেটারও দিয়েছিলাম।”


নদী থেকে কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়ায় মো. আমজাদ হোসেনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এ নদীতে কারেন্ট জাল ব্যবহার না করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন।


এ ছাড়া ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা এবং মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান সংসদ সদস্য শান্ত।


জ্বালানির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তেলের দাম বাড়ানো হয়নি; অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। আমাদের দেশে তেলের দাম প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশে প্রতি লিটার তেলের দাম ১৩৪ টাকা ৫৪ পয়সা। অন্য দেশে তেল পাচার ঠেকাতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” এ সিদ্ধান্তকে একটি চক্র ভিন্নভাবে প্রচার করছে বলেও দাবি করেন তিনি।


এর আগে স্বাগত বক্তব্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চান্দহর নদীর এ কূলে কচুরিপানা জমে থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। সংসদ সদস্যের অনুপ্রেরণায় স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে নদী থেকে কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


তিনি চান্দহর নদী ও আশপাশের খাল খননসহ এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দাবি তুলে ধরে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধান অতিথির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।


অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন কবির ও সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম।


এ সময় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন আজিবর রহমান সরদার, আর্শেদ আলী মুন্সি ও মাওলানা মাহমুদুল হাসান। তাঁরা চান্দহর নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, নিয়মিত কচুরিপানা অপসারণ, অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ এবং নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।


এমকে/বিএম২৪