আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী কারাগারে

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী কারাগারে

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।


মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মাকসুদা ইসলামকে হাজতি পরোয়ানার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আসামিপক্ষে কোনো আবেদন করা হয়নি।


এর আগে সোমবার মাকসুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।


গত রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন।


মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।


মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত জুনে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী মরিয়মের বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও মরিয়ম শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মরিয়মকে একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় বিছানার ওপর মরিয়মের লেখা একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


মামলায় মরিয়মের বাবার অভিযোগ, আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং প্ররোচনার কারণে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।


উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।


এর আগে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ২১ জুলাই পল্লবী থানায় একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান বাদী হন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট আট সপ্তাহের জামিন পান। বর্তমানে মরিয়মের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় ওই ওবায়দুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে।


এমকে/বিএম২৪