“‘মন মতো না হলে ধর্ষক’— বিতর্কিত মন্তব্যে চাকসু নেতা ”
আহমেদ মুনহা, চবি প্রতিনিধি:
চাকসু নেতা আকাশ দাসের ধর্ষণ-বিষয়ক মন্তব্যে তোলপাড়, চরম সমালোচনা এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষোভে ফুঁসছে চবি ক্যাম্পাস।
সম্প্রতি চাকসুর নির্বাহী সদস্য আকাশ দাসের একটি ফেসবুক পোস্টে ধর্ষণ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা।
আকাশ দাস তাঁর পোস্টে লেখেন, “ছেলেটা যদি দোষী প্রমাণিত হয় তাহলে অবশ্যই শাস্তি দাবি করছি, কিন্তু মেয়েটা একেবারেই নির্দোষ— এমনটা নয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ছেলের দোষ যদি ৭০% হয়, তাহলে মেয়েরও অন্তত ৩০% দোষ আছে।”
এছাড়া তিনি বিতর্কিতভাবে লিখেছেন, “নিজের মন মতো হলে বন্ধু বা বয়ফ্রেন্ড, আর মন মতো না হলে ধর্ষক।”
এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।
দর্শন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহীন প্রতিক্রিয়ায় বলেন,
> “চাকসু নির্বাচনে শিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত আকাশ দাস এমন দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে মন্তব্য করে সরাসরি ধর্ষকের পক্ষ নিয়েছেন। তিনি একপাক্ষিকভাবে ধর্ষণকে যৌন সম্মতি না পাওয়ার ফল হিসেবে তুলে ধরেছেন— যা গভীর নারী বিদ্বেষী দৃষ্টিভঙ্গি।”
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদা আক্তার বলেন,
> “একটা মেয়েকে কখনোই জোর করে ঘর থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা সম্ভব না— এমন ধারণা যে মানুষ রাখে, সে নিজেই নোংরা মানসিকতার। এমন প্রতিনিধি আমাদের হতে পারে না। আকাশ দাসের চাকসুর পদ বাতিল করতে হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আকাশ দাসের মন্তব্যকে “নারী বিদ্বেষী”, “ধর্ষণকে পরোক্ষভাবে সমর্থনকারী” এবং “সামাজিকভাবে ক্ষতিকর” বলে অভিহিত করেছেন।
বিভিন্ন শিক্ষার্থী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে, কেউ কেউ বলছেন—
> “একজন প্রতিনিধি যদি ধর্ষকের যুক্তি খুঁজে বের করতে চায়, তাহলে সে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের যোগ্য নয়।”









