বাবার বিক্রি করা জমি ছেলেদের দখলের চেষ্টা
সোহরাব হোসেন, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের চর আটিপাড়া গ্রামে বাবার বিক্রি করা জমি দখলে নিতে গ্রহীতাকে উচ্ছেদ চেষ্টার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে ছেলেদের বিরুদ্ধে। ওই ফসলি জমির অবৈধ দখল নিতে পুঁতে দেয়া হয়েছে একাধিক সিমেন্টের খুটিঁ।
এ ব্যাপারে ওই গ্রামের মৃত মোতালেবের ছেলে ভুক্তভোগী মো.শাহ আলম শনিবার( ২৩ মে) সাত জনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হচ্ছেন- একই গ্রামের মৃত শাহজাহান মাদবর এর ছেলে মিজানুর রহমান (৪৫),সাঈদ(৫০),ওবায়দুল (৪৮),মফি মাদবরের ছেলে সাইফুল(৪৮), রিপন (৪৫),সাইফুলের ছেলে জিহাদ (২২)ও মৃত আকু মাদবরের ছেলে মফি মাদবর (৭৫)।
রোববার(২৪ মে) সরেজমিন ও অভিযোগে থেকে জানা গেছে,ওই গ্রামের চর কালিগঙ্গা মৌজায় মৃত শাহজাহান ১৯৯৮ সালে অভিযোগকারীর পিতা মোতালেবের কাছে ৩ বিঘা জমি বিক্রি করে সমুদয় টাকা নিয়ে দখল বুঝিয়ে দেন। এরমধ্যে দুই বিঘা জমি রেজিস্ট্রি করে দিলেও ১ বিঘার কাগজপত্র জটিলতা থাকায় রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে ১২ বছর আগে শাহজাহান মৃত্যুবরণ করলে ওই জমি নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। তার ওয়ারিশানরা কাগজপত্র ঠিকঠাক করে জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে টালবাহানা শুরু করে। স্থানীয় গণ্যমান্যরা বিভিন্ন সময় বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করেন।
এদিকে,গত ২১ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মৃত শাহজাহান মাদবরের ছেলে মিজানুর রহমান ও তার ভাইদের নেতৃত্বে আরো ৫-৭ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই জমির দখল নিতে ফসলাদি নষ্ট করে জমির মাঝ বরাবর একাধিক সিমেন্টের খুঁটি স্থাপন করে। এতে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ফসলাদি ক্ষতি হয় বলে বাদী শাহ আলম তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন।
স্থানীয় লাল বুরু জানান, শাহজাহান মাদবরের কাছ থেকে মোতালেব ৩ বিঘা জমি ক্রয় করলেও সে ১ বিঘা লিখে দেয়নি। এখন অন্যায়ভাবে তার ছেলেরা জমি দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন(৭৭) বলেন,১৯৯০ সালে শাহজাহান মাদবর ২ বিঘা জমি ৩৬ হাজার টাকায় আমার কাছে বিক্রি করেছিলেন। পরে জায়গা বুঝিয়ে না দিয়ে ৬ হাজার রেখে বাকি টাকা আমাকে ফেরত দেন।
ভুক্তভোগী মোঃ শাহ আলম বলেন, অভিযুক্ত মিজানের নেতৃত্বে বিবাদীরা আমাকে প্রতিনিয়ত হুমকি- ধমকি দিচ্ছে। সর্বশেষ ২২ মে সকালে বাছেক বৃধার বাড়ির সামনে আমাকে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ মারধরের চেষ্টা করে৷ তিনি তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার ন্যায্য বিচার দাবি করেন।
অভিযুক্ত বিবাদী মিজানুর রহমান বলেন, ওটা আমাদের নিজস্ব সম্পত্তি । জমিতে আইল না থাকায় শাহ আলমের ২ বিঘা রেখে ১৬০৯ দাগের বাকি জায়গায় আমি খুঁটি গেড়ে চলাচলের ব্যবস্থা করেছি। জমিতে সবজি আবাদে বর্গাচাষির যে খরচ হয়েছে সেটা আমি দিয়ে দিব। অভিযোগকারীকে মারধরের চেষ্টা ও হুমকি- ধমকির অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা ও সিংগাইর থানার এসআই মো. ফজলুল হক বলেন,অভিযোগের কপি হাতে পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।








