‘রাজাকার’ অপপ্রচারের জবাব দিলেন বিএনপি মহাসচিব: চখা মিয়া ছিলেন না সহযোগী, দাবি মির্জা ফখরুলের

প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:৫৬ পিএম
‘রাজাকার’ অপপ্রচারের জবাব দিলেন বিএনপি মহাসচিব: চখা মিয়া ছিলেন না সহযোগী, দাবি মির্জা ফখরুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাবেক মন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁওয়ের বর্ষীয়ান নেতা মরহুম মির্জা রুহুল আমিন ওরফে চখা মিয়া কোনোভাবেই ‘রাজাকার’ ছিলেন না বলে দাবি করেছেন তাঁর সন্তান ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি বলেছেন—গত ৫৪ বছরে তাঁর বাবার নামে কোনো মামলা হয়নি, অথচ সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ছড়ানো হচ্ছে।

রবিবার (৯ নভেম্বর) বিএনপি মহাসচিবের একটি বক্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে চখা মিয়ার নাম ‘রাজাকার’ প্রসঙ্গে আলোচনায় আসলে তিনি রাতেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে লিখিত প্রতিক্রিয়া জানান।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিবার নিয়ে ভারতে আশ্রয়ের দাবি

মির্জা ফখরুল লেখেন,

“১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ আমার বাবা মা ও দুই বোনকে নিয়ে নানাবাড়িতে যান। এরপর এপ্রিলের মধ্যেই সবাই মিলে ভারতের ইসলামপুরের রিফিউজি ক্যাম্পে চলে যান এবং যুদ্ধের প্রায় পুরো সময় সেখানে অবস্থান করেন। ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও মুক্ত হওয়ার পরপরই তিনি দেশে ফেরেন।”

ফিরে এসে বাবা কী পরিস্থিতি দেখেছিলেন সে কথাও উল্লেখ করেন বিএনপি মহাসচিব—

“বাড়িঘর প্রায় সব লুট হয়ে গেছে। মা তাঁর গয়নাগাটি বিক্রি করেছিলেন। আমি অর্থনীতির শিক্ষকতা শুরু করি এবং প্রথম বেতন মা’র হাতে তুলে দিই। লাখো মানুষের মতোই আমরা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবন গড়ে তুলি।”

‘৫৪ বছরে মামলা নেই’—ফখরুলের দাবি

বাবার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ কিংবা সহযোগিতার অভিযোগ কখনও আইনি পর্যায়ে ওঠেনি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন,

“গত ৫৪ বছরে আমার বাবার নামে কোথাও কোনো মামলা হয়নি। ঠাকুরগাঁওয়ের যা কিছু আধুনিক—সবকিছুর সূচনা হয়েছে তাঁর হাত ধরে। তাঁর মৃত্যুতে ১৯৯৭ সালে সরকারি শোক প্রকাশও করা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন—

“মিথ্যাচার শুরু হয়েছে Awami সরকারের আমলে। দুঃখজনকভাবে গত এক বছর ধরে একটি গোষ্ঠী—যারা নিজেদের ‘জুলাই আন্দোলনের’ অংশ মনে করে—তারা-ও এই অপপ্রচারে অংশ নিচ্ছে।”

সত্যের পথে থাকার আহ্বান:

নতুন প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন,

“সত্যকে পরাস্ত করা যায় না। পপুলিজম দিয়ে সাময়িক জনপ্রিয়তা কেনা গেলেও একটি দেশ গড়া যায় না। সততা, নীতি, মেধা ও দেশপ্রেম দিয়েই মর্যাদাবান বাংলাদেশ তৈরি হবে।”

বিবৃতির শেষে তিনি সুরা হুজুরাতের একটি আয়াত উল্লেখ করেন—

“হে মুমিনগণ, অধিক অনুমান থেকে দূরে থাকো; কিছু অনুমান তো পাপ।”

চখা মিয়ার রাজনৈতিক জীবন

মির্জা রুহুল আমিন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদে ১৯৬২–৬৬ পর্যন্ত দু’বার নির্বাচিত হন। পরে তিনি ১৭ বছর ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি

১৯৭৯ সালে দিনাজপুর–৪,

১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও–২ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন।

তিনি বাংলাদেশ সরকারের কৃষি, সমাজকল্যাণ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

রাজাকার তালিকা নিয়ে বিতর্ক

২০১৬ সালে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সাংসদ খালিদ মাহমুদ চৌধুরী দাবি করেন, মির্জা রুহুল আমিন যুদ্ধাপরাধীদের তালিকায় ৭১০ নম্বরে ছিলেন।

তবে ২০১৯ সালে সরকার যে আনুষ্ঠানিক রাজাকার তালিকা প্রকাশ করে, তাতে তাঁর নাম পাওয়া যায়নি।

বিএনপি মহাসচিবের এ বক্তব্যের পর চখা মিয়ার ‘রাজাকার’ বিতর্ক নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপপ্রচার নাকি সত্যিই কোনো ঐতিহাসিক বিতর্ক আছে—এ বিষয়টি নিয়ে এখন নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।